
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের ভাওয়াল রেঞ্জের আওতাধীন ভবানীপুর বিটে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে পাকা বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সিদ্দিক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটছে ভবানীপুর বিটের নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর-পূর্ব কোণ সংলগ্ন ভবানীপুর মাইজ পাড়া গ্রামের শেষ সীমানা এবং মনিপুর বিটের নয়াপাড়া গ্রামের শেষ সীমানা এলাকায়, যা স্পষ্টই বন বিভাগের আওতাধীন সংরক্ষিত জমি বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সিদ্দিক ওই বনভূমি দখল করে সেখানে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ বিষয়টি ভবানীপুর বিট কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি বিট অফিসার কে নির্দেশ দেন রেঞ্জ অফিসারের নির্দেশে বিট কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে না গিয়ে ভবানীপুর বিটের দুইজন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে চলে আসেন কিন্তু কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে এখনো দেখা যায় নাই ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
—এলাকাবাসীদের প্রশ্ন আইন কি শুধু গরিব ও অসহায়দের জন্যই প্রযোজ্য?
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কোনো গরীব মানুষ নিজের টিনের ঘরের ছাউনি পরিবর্তন করতে গেলেও বন বিভাগের লোকজন দ্রুত উপস্থিত হয়ে বাধা দেয়। কিন্তু একই বিভাগের আওতাধীন সংরক্ষিত বনভূমিতে প্রকাশ্যে পাকা বাড়ি নির্মাণের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে তাদের এই রহস্যজনক নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের বন আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে দখল, নির্মাণ বা ব্যবহার সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্ট আইনে এমন কর্মকাণ্ডের জন্য জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে। তবুও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এমন দখলদারীত্ব চলতে থাকলে তা শুধু বন উজাড়ই নয়, আইনের শাসনের উপরও আঘাত হানে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে একের পর এক বনভূমি দখল হয়ে গেলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। বনভূমি রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের যদি এভাবে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা থাকে, তাহলে তা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।