
পীরগাছা প্রতিনিধিঃ
সারাদেশে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব তীব্রভাবে পড়েছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলাতেও। হঠাৎ করে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো এলাকার পরিবহন ব্যবস্থা। জ্বালানি তেলের অভাবে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে হাজারো যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। যে সকল পাম্পে সীমিত পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন যানবাহন চালকরা। অনেক স্থানে এই লাইনের দৈর্ঘ্য প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তীব্র গরম ও কষ্টকর পরিস্থিতির মধ্যেও চালকরা তেলের আশায় অপেক্ষা করছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের।
চালকদের অভিযোগ, এই সংকটের কারণে তাদের দৈনন্দিন আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ভাড়ায় চালিত অটোরিকশা ও ট্রাকচালকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এদিকে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। পরে সেই মজুদকৃত তেল চড়া দামে বা উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে এবং সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনগুলোর চলাচলও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ দ্রুত এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা সুষ্ঠু তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলেও তারা জানিয়েছেন।