
শরীফ ফায়েজুল কবীর,ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
মাদারীপুর শররের সর্বত্রই এখন বেওয়ারিশ কুকুড়ের কামড় আতঙ্ক। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে লোকাল সড়ক ও প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ভোরবেলা ও রাতে এ আতঙ্ক ভয়াবহ রুপ নিয়েছে, ভুগছে সর্বস্তরের মানুষ। শহরের বিভিন্ন জায়গা, পাড়া-মহল্লা এমনকি প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে সর্বত্র এখন বেওয়ারিশ কুকুড়ের উৎপাত পরিলক্ষিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি এলাকা থেকে শিশু-বৃদ্ধ সহ বেশ কয়েকজনকে কামড়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সোমবার (২৩ শে মার্চ) দুপুরে শহরের উপকন্ঠের চরমুগরিয়া বাজার বন্দরে কুকুড়ের কামড়ানোর খবরের তথ্য নিতে গেলে এ ব্যাপারে সেখানের দেশে আসা স্থানীয় প্রবাসী লিথু হাওলাদার বলেন,ঈদুল ফিতরের পরের দিন রবিবার চরমুগুরিয়া বন্দর বাজারে স্থানীয় টিপু হাওলাদারের পাঁচ বছরের শিশু মোহাম্মাদ হাওলাদারকে কামড়ে দিয়েছে কয়েকটি বেওয়ারিশ কুকুরের মধ্যে একটি কুকুর। পরে তাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক দেয়া হয় এবং এঘটনার সত্যতাও পাওয়া যায়। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকার মোকসেদ সিং এর পঞ্চাশোর্ধ পুত্র দেলোয়ার হোসেন সিং-কে কয়েকদিন আগে একইভাবে কামড়ে দেয় একটি বেওয়ারিশ কুকুড়, পরে তিনিও প্রতিষেধক ভ্যাকসিন নিয়েছেন বলে জানান।
বেওয়ারিশ কুকুরের যন্ত্রণায় বেশী বিপাকে পড়ছেন খুব সকালে ফজরের নামাজ আদায় করতে যাওয়া ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও হার্টের সমস্যায় শারীরিক কসরতের জন্য পায়ে হেটে পথচলা মানুষগুলো। বেওয়ারিশ কুকুরের যন্ত্রণা ও ভয়ে অনেকে মসজিদে না গিয়ে ঘরে নামাজ আদায় করছেন, বাড়ীর বাইরে গিয়ে ব্যায়াম করা ছেড়ে দিয়েছেন অনেকেই। অপরদিকে কুকুড়ে কামড়ানোর প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিনের অপ্রতুলতারও অভিযোগ রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে, অনেক সময় হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকায় ভূক্তভোগীদের বাহির থেকেও ভ্যাকসিন কেনার অভিযোগ পাওয়া গেছে । এ ব্যাপারে আশু সমাধানের জন্য বিষয়টি মাদারীপুর সদরের নির্বাচিত মাননীয় এমপি জাহান্দার আলী মিয়া সহ মাদারীপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন মাদারীপুর শহরবাসি।