
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের জারুল্লাহাটি এলাকায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে মো. সিরাজুল ইসলাম নামে এক সৌদি প্রবাসীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তারই আপন দুই চাচা মোঃ জাকির হোসেন ও আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে সরাইল উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন প্রবাসী সিরাজুল ইসলাম। ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম একই এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে। হামলার ঘটনায় তিনি সরাইল থানায় – একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমার আপন চাচা জাকির হোসেন ও আনোয়ার হোসেনের যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ। দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর ধরে তারা নানা ভাবে আমাদের হয়রানি করে আসছে। তাদের অত্যাচারের কারণে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা এলাকায় স্বাভাবিকভাবে বসবাস ও ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছি না। বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের আমলে কৌশলে জাকির হোসেন আমার কালিকচ্ছ বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ষড়যন্ত্র করে বন্ধ করে দেয়।”
হামলার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “গতকাল আমি সরাইল বাজার থেকে জারুল্লাহাটি আমার বসতবাড়ির সামনে পৌঁছালে আমার দুই চাচা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা লাঠি-সোটা নিয়ে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা আমার পাঞ্জাবি টেনে হিঁচড়ে পকেটে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ নিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। তবে কল করার পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তিনি সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে -এ চিকিৎসা গ্রহণ করে সরাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রবাসী সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমি একজন প্রবাসী। দীর্ঘদিন ধরে আমার পরিবার নির্যাতনের শিকার হলেও আমরা ন্যায়বিচার পাচ্ছি না। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—আমরা কি এই দেশে নিরাপদে বসবাস করতে পারবো না?”
এ বিষয়ে সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)
মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।