
লক্ষীপুর প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় বিল্লাল হোসেন মিশরী (৪৫) নামে এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে পৌর শহরের রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সাব-রেজিস্ট্রার মসজিদের বিপরীতে একটি তরমুজের আড়তের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বিল্লাল হোসেন মিশরী উপজেলার ৬ নম্বর কেরোয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ও মৃত হাবিব উল্লাহর ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিল্লাল মিশরী তরমুজ কিনতে ওই আড়তে গেলে সেখানে দুই রিকশাচালকের মধ্যে ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটি ও মারামারি শুরু হয়। এ সময় বিল্লাল মিশরী ও কবির মহুরী নামে আরেক ব্যক্তি তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। এতে অভিযুক্ত রিকশাচালক রহমান (৩৫) ক্ষিপ্ত হয়ে বিল্লালকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় কবির মহুরীও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহতের স্বজন আনোয়ার টিপু অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত রহমান বিল্লালকে চোখ, মুখ ও বুকে মারধর করে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
নিহতের বোন বিলকিস আক্তার বলেন, মারধরের পর থেকেই তার ভাই বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের কথা বলছিলেন। এই ঘটনায় পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
অভিযুক্ত রহমানের বাবা শাহ আলম বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে তার ছেলে অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী বিচার হওয়া উচিত।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে আটকের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।