
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
রাজধানীর বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)-এর প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডেসকোর জিয়া পরিষদের সভাপতি এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সাজেদুল ইসলাম—যিনি মূলত ম্যানেজার পদে কর্মরত—গত প্রায় তিন মাস ধরে তার অফিস কক্ষে বহিরাগতদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বৈঠকে স্থানীয় কিছু বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরও উপস্থিতি ছিল।
সূত্রের ভাষ্য, গত ৫ আগস্ট নতুন কমিটি গঠনের পর থেকেই রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে আন্ডারগ্রাউন্ড বৈদ্যুতিক ক্যাবল অপসারণ এবং তা অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে,কোটি টাকার মূল্যমানের এসব ক্যাবল চুরির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রকে প্রশাসনিকভাবে সহায়তা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অতীতে আওয়ামী লীগপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে নিজের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এছাড়া ডেসকোর সিকিউরিটি টিমের কয়েকজন নারী সদস্যকে তার ব্যক্তিগত কক্ষে দায়িত্ব পালন করানো এবং অফিস সময়ের বাইরে ব্যক্তিগত গাড়িতে তাদের সঙ্গে চলাচলের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আরও জানা যায়, ম্যানেজার পদে থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন যা নিয়ে ডেসকোর ভেতরেই অসন্তোষ রয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ডেসকো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঙ্গে জড়িত এমন অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।