
বাদল,সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন (সরাইল–আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) থেকে নবনির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নিজের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। সরাইলের এক জনসভায় তিনি বলেছিলেন, “এক বাপের বেটি হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনেই নির্বাচন করব—যেই কথা সেই কাজ।” দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তিনি বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কৃত হন।
জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২। এক অদম্য, বিদ্রোহী নারী প্রার্থীর আত্মবিশ্বাসী লড়াই নজর কাড়ে সর্বত্র। ভয়-ভীতি ও প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে তিনি এগিয়ে যান দৃঢ় প্রত্যয়ে।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন রুমিন ফারহানা। ঘাত-প্রতিঘাত, দলীয় বহিষ্কার ও রাজনৈতিক চাপে থেকেও তিনি সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের অংশের মানুষের আস্থা অর্জন করেন।
ভোটের পরিসংখ্যানে নির্বাচনী এলাকার ১৫১টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিল ৪,৯৩,৪৯৪ জন। পোস্টাল ভোটার ছিলেন ৫,৯৫৭ জন। সর্বমোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪,৯৯,৪৫১ জন।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শারমিন আক্তার জাহান প্রদত্ত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী—রুমিন ফারহানা (হাঁস প্রতীক) পেয়েছেন ১,১৮,৫৪৭ ভোট ও মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুর গাছ প্রতীক) প্রতীক পেয়েছেন ৮০,৪৩৪ ভোট। রুমিন ফারহানা ৩৮,১১৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।
সরাইল উপজেলার ৮৫টি কেন্দ্রে তিনি পান ৭০,৯০২ ভোট এবং জুনায়েদ আল হাবিব পান ৪৬,৯৩৭ ভোট। আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের অংশের ৬৬টি কেন্দ্রে রুমিন পান ৪৭,৬৪৫ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী পান ৪৩,৪৯৭ ভোট।
সরাইলে ভোটদানের হার ছিল ৫০.৪% এবং আশুগঞ্জ উপজেলায় ৪০.৬৩%।
রুমিন ফারহানার বিজয়ে সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানানো হচ্ছে। ৭০ বছর বয়সী ভোটার আব্দুল গফুর বলেন, “বহুদিন পর একজন যোগ্য নেতা পেয়েছি। তার মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন হবে।”
এমবিবিএস ৫ম বর্ষের ছাত্র আরিফ মাহমুদ আহসান মেহেদি বলেন, “জীবনের প্রথম ভোট রুমিন আপাকেই দিয়েছি। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন।”
সমর্থকদের প্রত্যাশা—সংসদে গিয়ে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবেন এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন।
এদিকে ১৩ ডিসেম্বর জারীকৃত প্রজ্ঞাপনের আলোকে প্রদত্ত ভোটের শতকরা ৮ ভাগের একভাগ ভোট না পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন কয়েকজন প্রার্থী, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—
আশরাফ মাহদী (এনসিপি) জিয়াউল হক মৃধা (জাতীয় পার্টি)
এসএন তরুণ দে (স্বতন্ত্র) তৈমুর রেজা শাহজাদ (জাসদ রব)
নেছার আহমেদ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)
মোঃ মাইনুদ্দিন (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ)
শরিফা আক্তার (আমজনতা পার্টি)।
সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
১৩/০২/২৬