1. news@dainikalokitonews.com : দৈনিক আলোকিত নিউজ : দৈনিক আলোকিত নিউজ
  2. info@www.dainikalokitonews.com : দৈনিক আলোকিত নিউজ :
সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডিএনসির উপপরিচালক জিললুর রহমানকে সিনিয়রিটি র‍্যাংক ব্যাজ প্রদান গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংবিধানে যা যা বদলে যাবে, নতুন যুক্ত হবে যেসব বিষয় নলছিটিতে যৌথবাহিনীর অভিযানে মাদকসহ আটক-৪ গাবতলীতে বিএনপি নেতা ও অ্যাডভোকেট শিপন গভীর রাতে নারীসহ হাতেনাতে আটক, অতঃপর বিয়ে—আইনের রক্ষক নাকি ভক্ষক? নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে লালমনিরহাট -১ আসনে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত প্রায় ১৫ জন এক নিমিষেই নিভে গেল তিন প্রাণ আমার জীবন থাকতে নেতা-কর্মীদের একটি পশমেও কেউ হাত দিতে পারবে না: রুমিন ফারহানা হিন্দু ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে, যাকে খুশি তাকে ভোট দিবেন, মির্জা ফখরুল জামায়াত আমিরের সঙ্গে বৃটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ মালদ্বীপকে ১৪ গোলে উড়িয়ে সাফ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

ভেনেজুয়েলা আগ্রাসন ও বিশ্ববিবেকের আর্তনাদ

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

ড. আব্দুল ওয়াদুদ.

আন্তর্জাতিক আইনের কোনোরূপ তোয়াক্কা না করে, আইনকে পদদলিত করে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে গেছে, সেই দৃশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতিরই নগ্ন বহি:প্রকাশ। নজিরবিহীন এই ঘটনা একটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্বের পরিপূর্ণ লঙ্ঘন, বৃহৎ রাষ্ট্রের যা খুশি তা করার বিপজ্জনক এক দৃষ্টান্ত হিসাবেই রয়ে যাবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নগ্ন হামলা ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অশান্তি ও গৃহযুদ্ধের হুমকি এবং লাতিন আমেরিকাজুড়ে সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি সৃষ্টি করেছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত অজুহাত অগ্রহণযোগ্য। ব্যাবসায়িক বাস্তববাদের ওপর আদর্শিক বৈরিতা জয়লাভ করেছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে আনতে গিয়ে গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বিমানঘাঁটি, সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে বিশাল হামলা চালান। এ হামলায় সামরিক-বেসামরিক মিলিয়ে প্রায় ৪০ জন নিহত হয়েছে।

পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় ন্যায়সংগতভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগপর্যন্ত সরকার পরিচালনার এবং ভেনেজুয়েলার তেলখনিতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোম্পানিগুলোকে পাঠানোর ঘোষণা দেন।

চোখ বাঁধা, কানে হেডফোন লাগানো, হাতে হাতকড়া ও কোমরে বেঁধে এক রাষ্ট্রের বৈধ প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এই দৃশ্য কি মানবতা ও মানবাধিকার দৃষ্টান্ত বহন করে? নাকি মধ্যযুগীয় কোনো সাম্রাজ্যবাদী অভিযানের দৃশ্য? দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হলো, এটি আজকের তথাকথিত সভ্য পৃথিবীর এক ভয়ংকর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মূর্ত প্রতীক। এই দৃশ্য সরাসরি ক্ষমতা বদলের ঘোষণা শুধু লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে নয়, সমগ্র আন্তর্জাতিক বিশ্বের জন্য একটি অশনিসংকেত ছাড়া আর কিছুই নয়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তারা মাদুরোকে ছাড়বে না, এমনকি ততদিন দেশটির শাসনভারও কার্যত তারাই দেখ-ভাল করবে। অনেকটা ইষ্টইন্ডিয়া কোম্পানির মতো।

একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে এভাবে আটক করার ঘটনা নজিরবিহীন। তবে এই হামলা ও গ্রেপ্তার ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক মাসের তীব্র চাপ প্রয়োগের ধারাবাহিকতারই অংশ। গত সেপ্টেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলার উপকূলে বড় আকারের নৌবহর মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে বিমান হামলা চালানো হয় এবং ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ জব্দ করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার অপরাধী চক্র ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’সহ কয়েকটি গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ক্যারিবীয় সাগরে কথিত মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু হয়। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল ট্যাংকার জব্দ এবং দেশটির চারপাশে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়।

মূলত ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ দখলের উদ্দেশ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে বলেই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ভেনেজুয়েলার ওপর চালানো এই বিমান হামলা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের উদ্ধত আচরণের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। হুমকি ও ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন আবারও নগ্ন শক্তির আশ্রয় নিয়েছে। এই আগ্রাসন দেশটির জনগণের স্বাধীন ইচ্ছা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর সরাসরি আঘাত। এই হামলায় ভেনেজুয়েলার কারাকাস ও দেশটির অন্যান্য অঞ্চলের বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই আগ্রাসন জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্বাধীনতার সর্বজনস্বীকৃত নীতিমালার চরম লঙ্ঘন। এ ধরনের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলবে এবং লাখ লাখ ভেনেজুয়েলাবাসীর জীবন বিপন্ন করবে বলেই বিশ্লেষকদের অভিমত।
গত কয়েক মাস যাবৎই ভেনেজুয়েলা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও অস্ত্র আসে এমন অভিযোগে ভেনেজুয়েলার নৌযানে হামলা, তেলবাহী জাহাজ আটক থেকে শুরু করে ক্যারিবীয় সাগরে রণতরি মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। যেমনভাবে ইরাকে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে বলে মিথ্যা প্রেক্ষাপট তৈরি করে ইরাকে হামলা করা হয়েছিল।

ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা ভিয়েতনাম বা ইরাক যুদ্ধের মতো ভয়াবহ পরিণতির দিকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞগণ। কোন দেশের জনগণ কখনোই বিদেশি শাসন মেনে নেয় না।
ভেনিজুয়েলায় মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিরোধের জন্ম দেবে এবং এটি ভিয়েতনাম বা ইরাকের মতো একধরনের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর বেআইনি আক্রমণ চালিয়ে ভেনেজুয়েলা শাসন করার যে ঘোষণা দিয়েছে তাতে যোগ হয়েছে আরও একটি ভয়াবহ প্রতিশ্রুতি। ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের কার্যকর সমাধান করবে ওয়াশিংটন। প্রশ্ন উঠেছে , এটা কি আন্তর্জাতিক আইন? নাকি খোলামেলা দখলদারিত্ব? জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক আইন, সার্বভৌমত্ব এসব শব্দ কি এখন কেবল দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর জন্য প্রযোজ্য?

ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর শাসনকে পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক শাসন বলার অবকাশ নাই। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণতন্ত্র নস্যাতের অভিযোগ আছে। কিন্তু, স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে ভেনেজুয়েলার সরকারকে কে পরিচালনা করবে, কোন পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা পরিচালিত হবে, সেটা নির্ধারণ করার পূর্ণ অধিকার ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের। কোন বৃহৎ শক্তির নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্বে প্রত্যক্ষ উপনিবেশবাদ না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও এর পশ্চিমা মিত্ররা সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উপায় হিসাবে পরোক্ষ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করে চলেছে বিভিন্নভাবে। যদিও ইতিহাস প্রমাণ করে, সম্পদ দখলের এই নব্য উপনিবেশবাদী নগ্ন প্রচেষ্টা কখনোই সফলতা পায় নাই। ভিয়েতনাম যুদ্ধ, ইরাক যুদ্ধ, আফগানিস্তান যুদ্ধ— প্রতিটি ক্ষেত্রে মার্কিনিদের পশ্চাদপসরণ ও পরাজয়ের অপমানজনক ইতিহাস রয়েছে। অনেক অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, রক্তপাত ও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। এর খেসারত সেই অঞ্চল ছাপিয়ে পুরো বিশ্বকেই শোধ করতে হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার জনগণকেই ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভাগ্যের নির্ধারক হবার সুযোগ করে দেয়া। ক্যারিবীয় অঞ্চলের গণতান্ত্রিক দেশ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হামলায় দেশটির জনগণ এখন দিশেহারা। যুক্তরাষ্ট্র তাদের তথাকথিত মনরো ডকট্রিন পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োগ করে ভেনেজুয়েলায় সামরিক কায়দায় হামলা করে মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যায়। যার প্রতিক্রিয়ায় সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় ওঠেছে। খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই সাধারণ জনগণ প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে। চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল, ইরান, কলম্বিয়া ও কিউবাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা কড়া প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘটনা থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশও একই ধরনের কাজ করতে উৎসাহিত হতে পারে।
এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তির কফিনে সম্ভবত সর্বশেষ পেড়েকটি ঠুকে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের মূল নীতি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
লেবানন ও ইরানে সম্প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো যৌথ হামলার সঙ্গে ভেনেজুয়েলার ঘটনার মিল রয়েছে। এসব হামলা প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।

সিএনএনের এক খবরে প্রকাশ করা এক জরিপে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলা মার্কিন জনগণের অধিকাংশই সমর্থন করছে না। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে ৬৩ শতাংশ বনাম ২৫ শতাংশ এবং সিবিএস নিউজ-ইউগভ জরিপে ৭০ শতাংশ বনাম ৩০ শতাংশ মানুষ সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান করছে।
একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে একটি সরকার থাকে। সেটি হতে পারে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার, রাজতান্ত্রিক সরকার, স্বৈরতান্ত্রিক সরকার বা অগণতান্ত্রিক সরকার। ভেনেজুয়েলায়ও একটি সরকার ছিল। ভেনেজুয়েলা একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। নির্বাচনে কারচুপি হতে পারে। তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা যেতে পারে যে তিনি সুষ্ঠুভাবে ভোট করেননি এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হননি। যদি এমনটা হয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার জনগণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ করতে পারে। তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানাতে পারে। তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তার পতনের জন্য কঠোর আন্দোলন সংগ্রাম হতে পারে। আন্দোলন সংগ্রাম করে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা যেতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশেই এ ধরনের আন্দোলন-সংগ্রাম করে অগণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তার বহু নজির বিশ্বে আছে। যেমন ইরানের রেজা শাহ পাহলভি, ফিলিপাইনের মার্কোস সহ অনেককেই পদত্যাগ করতে হয়েছে এবং কেহ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু কথিত অভিযোগে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের প্রেসিডেন্টকে সামরিক হামলা করে আটক করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে তো কোনোভাবেই গ্রহনযোগ্য হতে পারে না। জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দেশ অন্য কোনো দেশের সার্বভৌম অঞ্চলে অনুমতি ছাড়া বা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতি ছাড়া শক্তি প্রয়োগ করতে পারে না। এই হামলা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসী চরিত্র এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার প্রতি তাদের অবজ্ঞাকে উন্মোচিত করেছে। একই সঙ্গে এই ঘটনা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ‘অথর্ব’ চরিত্রকেও সামনে নিয়ে এসেছে। মাদকের অজুহাতে এই হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদ দখল করা এবং প্রতিক্রিয়াশীল ধনিক-অলিগার্ক শক্তির সঙ্গে জোট বেঁধে জোরপূর্বক সরকার পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়া। ভেনেজুয়েলায় নগ্ন সামরিক আগ্রাসনে বিশ্ব বিবেকের আর্তনাদ কি কখনো শুনতে পাবেন বিশ্ব মানবতা ও গণতন্ত্রের সোল এজেন্ট দাবীদার বিশ্বমোড়লরা।

লেখক : ফিকামলি তত্ত্বের জনক; বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক শিক্ষক,গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-২০২৬ আমাদের প্রকাশিত সংবাদ,কলাম,তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট