
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ঢাকায় বাড়িভাড়া বাড়ানোর প্রথা এবার থেকে নিয়ন্ত্রণে আসছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্দেশ দিয়েছে, বাড়িভাড়া দুই বছরের মধ্যে বাড়ানো যাবে না। নতুন নির্দেশিকায় বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার দায়িত্ব নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাড়িভাড়া বৃদ্ধির সময় নির্ধারিত করা হয়েছে অর্থবছরের জুন-জুলাই মাসে। বার্ষিক বাড়িভাড়া বাড়ি বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। বাড়িওয়ালা দুই বছরের মধ্যে কোনো ভাড়া বৃদ্ধি করতে পারবেন না, দুই বছরের পর দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে পরিবর্তন সম্ভব।
নির্দেশিকায় বাড়িওয়ালাদের জন্য বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। বাড়ি বসবাসের উপযোগী রাখতে হবে, ইউটিলিটি সেবা (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি) নিশ্চিত করতে হবে এবং গৃহস্থালি বর্জ্য নিয়মিত সংগ্রহ করতে হবে। ছাদ, বারান্দা বা উন্মুক্ত স্থানে সবুজায়নের সুযোগ থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ছাদ ও মূল গেটের চাবি শর্তসাপেক্ষে ভাড়াটিয়াকে দিতে হবে।
ভাড়াটিয়ার দায়িত্বও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া প্রদান করতে হবে এবং লিখিত রসিদ সংগ্রহ করতে হবে। বাড়িতে ভাড়াটিয়ার প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে। বাড়িওয়ালা নিরাপত্তা বা অন্যান্য পরিবর্তন করলে ভাড়াটিয়াকে জানানোর বাধ্যবাধকতা থাকবে। নিয়মিত ভাড়া না দিলে বাড়িওয়ালা লিখিত সতর্কতা দিয়ে চুক্তি বাতিল ও উচ্ছেদ করতে পারবেন।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে সব শর্ত লিখিত চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অগ্রিম ভাড়া সর্বাধিক ১-৩ মাস নেওয়া যাবে। স্থানীয় স্তরে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা সমিতি গঠন করা হবে, যা সালিশ ও বিবাদ সমাধানের দায়িত্বে থাকবে। সিটি করপোরেশনও আঞ্চলিক ওয়ার্ডভিত্তিক সহায়তা প্রদান করবে।
নতুন নিয়মের ফলে ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত হবে, বাড়িওয়ালার দায়িত্বও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি ঢাকায় ভাড়া বাজারে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রনের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।