
লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার শৌলমারী-ভুল্যারহাট এলাকায় মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব এবং নদীভাঙন, বন্যা ও খরার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ শত শত তিস্তাপাড়ের মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকার ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। গত ১৯ জুন সরকারদলীয় তিনজন মন্ত্রী তিস্তা এলাকা পরিদর্শন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা ঘোষণা করা হয়নি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, “এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট ঘোষণা করা হলেও সেখানে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য কার্যকর কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। সরকার তাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় তিস্তাকে স্থান দেয়নি বলেই আমরা আন্দোলনে নেমেছি। এখনো বাজেট সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তাই এ অঞ্চলের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সংসদে তিস্তা মহাপরিকল্পনার পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।”
মানববন্ধনে উপস্থিত নেতারা বলেন, তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষ বছরের পর বছর নদীভাঙন, বন্যা, খরা ও জীবিকাসংকটে ভুগছেন। কার্যকর নদীশাসন ও পানি ব্যবস্থাপনার অভাবে তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
এ সময় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল ইসলাম রাজু। তিনি বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য মানুষ বহু বছর ধরে অপেক্ষা করছে। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটেও তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। আমরা আর কোনো নতুন প্রতিশ্রুতি চাই না, আমরা প্রকল্পটির বাস্তবায়ন চাই।”
লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহের বলেন, “তিস্তার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় সামান্য পানি বাড়লেই তিস্তাপাড়ের মানুষের বাড়িঘর প্লাবিত হয়, ফসলের ক্ষতি হয় এবং দুর্ভোগ বাড়ে। স্বাধীনতার পর থেকে মানুষ শুধু প্রতিশ্রুতিই শুনে আসছে। এখন আর কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন চাই। অন্যথায় রংপুর অঞ্চলের পাঁচটি জেলা নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষ বলেন, তিস্তা নিয়ে আর কোনো টালবাহানা দেখতে চান না তারা। দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীভাঙন, বন্যা ও খরার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ইসলাম, সহ জামায়াতের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং তিস্তাপাড়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply