
আলোকিত নিউজ ডেস্কঃ
সারা দেশে প্রত্যেক গ্রামে ১টি বা ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। আছে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক। দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি এবং অনুমোদিত শিক্ষকের সংখ্যা ৪,৩৯,৮৪৪ জন যার অধিকাংশ শিক্ষক স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী।
অথচ সারা দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো কিন্ডারগার্টেন (কেজি) স্কুল গড়ে উঠছে,যার অনেকগুলোই অনুমোদনহীন । সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে শুধু বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে প্রতিষ্টিত হয়েছে এসব স্কুল। এসব স্কুলে শিক্ষার মান নিম্নমানের,নেই শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ,অস্বাস্থ্যকর ঘিঞ্জি ও সংকীর্ণ পরিবেশে ক্লাস এবং পরীক্ষা চলে। অনুমোদনহীন ভূঁইফোঁড় এসব কিন্ডারগার্টেন (কেজি) স্কুলে কোমলমতি শিশুরা যথাযথ শিক্ষা পাচ্ছে না।শিক্ষকদের পৃথক রুম,পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ,পানির সুব্যবস্থা,ছেলেমেয়েদের জন্য পৃথক টয়লেট থাকা বাধ্যতামূলক। অধিকাংশ স্কুল এসব নিয়মকানুন না মেনেই গড়ে উঠেছে। অত্যন্ত সামান্য বেতনে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করা শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। ইসলাম ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা মহীয়সী নারীদের নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করে প্রতিটা হাট-বাজার এলাকায় অসংখ্য কিন্ডারগার্টেন (কেজি) স্কুল,মাদ্রাসা গড়ে তুলছে,যা শিক্ষার মূলস্রোতধারা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অবৈধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পাড়া-মহল্লায় চটকদার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে,নানা রকম ইসলামী নীতি বাক্য শুনিয়ে অভিভাকদের প্রলুব্ধ করে শিশুদের ভর্তি করা হচ্ছে। বাংলা,ইংরেজী,গণিত এবং আরবীসহ নানারকম বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। সাপ্তাহিক,মাসিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।পরীক্ষাগুলোতে ১০০ নম্বরের মধ্যে ইচ্ছামত ৯০-৯৯ নম্বর দিয়ে অভিভাকদের খুশি করছে। ক্লাসটাইমের পরে কোচিং এর কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। অথচ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) আইন-২০১৮ অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার কথা কিন্তু কেউই মানছেন না আইনকানুন। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষিত দুইজন মাননীয় মন্ত্রী দেশবাসীকে শিক্ষার বেহাল দশাকে একটা আইনের কাঠামোতে আনবেন,এমনই প্রত্যাশা সকলের।