
লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে দুই শতাধিক নারী পুরুষের কাছ থেকে ২০০ শত টাকা করে প্রায় অর্ধলাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন আব্দুল মালেক নামে এক ইউপি সদস্য। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মালেক লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য। এঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর গণস্বাক্ষর সম্বলিত একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জানাগেছে, ওই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সুবিধাভোগী ২০৯ জন নারী পুরুষের কাছ থেকে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির পুরাতন কার্ড বাতিল করে নতুন করে কার্ড দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে ঘুষ আদায় করেছেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তিনি ডকুমেন্টস হিসাবে রাতের আঁধারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরু ছাগলের খোয়াড় এর রশিদ ও ইউনিয়ন পরিষদের বিবিধি কর আদায়ের রশিদ ধরিয়ে দেন।
এদিকে দরিদ্র মানুষজনদের কাছে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ইউপি সদস্যের উৎকোচ গ্রহণের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
নুরনবী নামে এক ভুক্তভোগী জানান, গ্রামবাসী অনেকে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে থাকা লোকজনের কাছে ইতোমধ্যেই বসত বাড়ির কর পরিশোধ করেছেন। মুলত ইউপি সদস্য ঘুষ গ্রহণের ঘটনা থেকে বাঁচতে পরিষদের একটি রশিদ ধরিয়ে দিয়েছেন তাদের হাতে।
অপর ভুক্তভোগী পঞ্চানন্দ বর্মন ও জোবেদা বেগম জানান, ইউপি সদস্যের কাছে ২০০শত টাকা দেয়ার পর ঘটনা জানাজানি হয়। পরে ওই ইউপি সদস্য ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের আর নতুন কার্ড দিচ্ছেন না। খাদ্য অফিসে গিয়েও নতুন কার্ড পাননি।
তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক জানান, তিনি পরিষদের পক্ষ থেকে ২০০শত টাকা করে কর আদায় করে তাদের রশিদ দিয়েছেন।
এঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া জানান, এ ঘটনায় ইউএনও অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। ঘটনা প্রমাণিত হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ব্যাবস্থা নেবেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ট্রেনিং- এ ঢাকায় অবস্থান করায় এ ঘটনায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।