
রাজশাহী ব্যুরো:
পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে বগুড়া জেলা সহ সমগ্র দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়া জেলার উপপরিচালক জিললুর রহমান।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে এক বর্ণাঢ্য ও হৃদয়স্পর্শী পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি ঈদের আনন্দকে আত্মশুদ্ধি, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আমরা যে আত্মসংযম, ধৈর্য ও নৈতিক শিক্ষার অনুশীলন করি, ঈদুল ফিতর সেই শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগের অনুপ্রেরণা দেয়। ঈদ কেবল উৎসব নয়—এটি সমাজে সাম্য, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার এক মহামূল্যবান উপলক্ষ। ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে সবাই যখন আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়, তখনই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য পূর্ণতা পায়।
উপপরিচালক জিললুর রহমান বলেন, “ঈদের এই পবিত্র দিনে আমরা যেন নতুন করে অঙ্গীকার করি—নিজ পরিবার, সমাজ ও দেশকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করব। মাদক একটি নীরব ঘাতক। এটি একজন মানুষের সম্ভাবনাময় জীবনকে ধ্বংস করে দেয়, একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে এবং সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।”
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তি থেকে রক্ষা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কৌতূহল, ভুল বন্ধুত্ব কিংবা সাময়িক হতাশা—যে কারণেই হোক, একবার মাদকের জালে জড়িয়ে পড়লে তা থেকে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রতিরোধই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ। পরিবারে সচেতনতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষার জোরদার প্রয়োগ এবং সামাজিক নজরদারি—এসবের সমন্বয়েই একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ডিএনসি বগুড়া জেলা নিয়মিত মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সচেতনতামূলক সভা, লিফলেট বিতরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মশালা ও গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে মাদক কারবারিরা যাতে কোনোভাবেই সক্রিয় হতে না পারে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
“আইন প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি,”—উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তবে শুধু অভিযান দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হন, তবে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া কোনো স্বপ্ন নয়, বরং বাস্তবতা।”
জিললুর রহমান বগুড়াবাসীর উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, তার আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না—এসব বিষয়ে সচেতন থাকুন। সন্দেহজনক কোনো তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করুন। আপনার একটি তথ্য হয়তো একটি পরিবারকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।”
তিনি দেশবাসীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন, ঈদের আনন্দ যেন কোনোভাবেই মাদক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কলুষিত না হয়। প্রত্যেকে যেন শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমে ঈদের প্রকৃত শিক্ষা ধারণ করেন।
সবশেষে তিনি বলেন, “আসুন, ঈদুল ফিতর ২০২৬-কে সামনে রেখে আমরা নতুন প্রত্যয়ে এগিয়ে যাই। নিজেকে বদলাই, সমাজকে বদলাই। মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়াই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।”
পবিত্র ঈদুল ফিতর সবার জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, সুখ ও অনাবিল আনন্দ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি আবারও দেশবাসীকে জানান আন্তরিক ঈদ শুভেচ্ছা।