সম্ভাবনার খাল, সতর্কতার ডাক: “কৃষক বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ” – প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রকাশিত:
সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
১৩
বার পড়া হয়েছে
দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুর: উত্তরের মাটিতে যখন নতুন সম্ভাবনার জলধারা বইতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়েই সতর্কতার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে ঘিরে কিছু গোষ্ঠীর অস্বস্তি তৈরি হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েই সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার সকালে দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া গ্রামে খাল খনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, দেশের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও খতিবদের সম্মানী, পাশাপাশি মন্দির ও গির্জার পুরোহিতদের ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন,
“এসবই ছিল আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি। আমরা কথা দিয়েছিলাম—এবং সেই কথা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছি। তবে আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখে কিছু গোষ্ঠী অখুশি হতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উত্তরাঞ্চল মূলত কৃষিনির্ভর অঞ্চল হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি অবহেলিত থেকেছে। কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়নি। বিএনপি সরকার সেই শূন্যতা পূরণে শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলে কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসার ঘটাতে চায়।
তার ভাষায়,
“গত ১৭ বছর মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবারের নির্বাচনে দেশের সর্বস্তরের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় বসিয়েছে। আমরা সেই আস্থার মর্যাদা রেখে মানুষের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, দিনাজপুরে শস্য উৎপাদন বাড়াতে এবং কৃষি শিল্প স্থাপনে সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন,
“এই সরকার জনগণের সরকার। জনগণই এদেশের মালিক। আমার কৃষক-মজুর বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে এবং আমরা ক্রমেই ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি, যা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই খাল খনন কর্মসূচি পানির জলাধার তৈরি করে পানি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এর ফলে পানির স্তর ধীরে ধীরে উপরে উঠে আসবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সরকারের এসব জনবান্ধব কর্মসূচি কারো কারো কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, কারণ এতে জনগণ উপকৃত হয় এবং উন্নয়নমুখর বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ আরও উন্মুক্ত হয়। এমন উন্নয়ন অনেক সময় একটি বিশেষ শ্রেণীর মানুষকে বিচলিত করে তোলে এবং তারা ইতিবাচক উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই কর্মসূচি বাংলাদেশের জন্য একটি অনিবার্য বাস্তবতা। এটিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তর করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ধীরে ধীরে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবে রূপ নেবে।
সমাজসেবা, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী চিন্তার অন্যতম প্রতিফলন এই জনবান্ধব খাল খনন কর্মসূচি। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি বলেন, সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি কেবল একটি প্রকল্প নয়, বরং একটি দর্শন—যে দর্শন স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি দৃঢ় পদক্ষেপে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন, কারণ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং কাহারোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাদশা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।