
রাজশাহী ব্যুরো:
বগুড়ার শিবগঞ্জে যাত্রীবাহী বাসে বিশেষ কৌশলে পাচারের সময় খেজুর সদৃশ প্যাকেটে লুকানো ৬ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়া জেলা কার্যালয়।
রবিবার (০১ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে শিবগঞ্জ থানাধীন ভরিয়া এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পশ্চিম পাশে হাসি-খুশি স্টোরের সামনে আদিবা ক্ল্যাসিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী কোচ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়—ঐ রুট দিয়ে একটি বড় মাদকের চালান পাচার হবে। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে ভরিয়া এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০১০৩ নম্বরের বাসটির G-3 সিটে টিকিটবিহীন অবস্থায় বসা এক যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশিকালে তার বহনকৃত একটি সাদা প্লাস্টিক বাজার ব্যাগের ভেতর খালি পানির বোতলের নিচে লাল টিস্যু ব্যাগে স্কচটেপে মোড়ানো তিনটি সাদা জিপারযুক্ত পলি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটগুলো খেজুর সদৃশ আকারে প্রস্তুত করে কৌশলে রাখা হয়েছিল।
উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় প্যাকেট থেকে ৫ হাজার পিস এবং তৃতীয় প্যাকেটে ১ হাজার ৯৫০ পিস কমলা বর্ণের ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানাধীন দরবস্ত ইউপির শিংজানি গ্রামের মৃত রমেশ চন্দ্রের ছেলে শ্রী শংকর চন্দ্র রায় (৫৭)।
ডিএনসি বগুড়া জেলার উপপরিচালক জিললুর রহমান বলেন,“মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে। খেজুর সদৃশ প্যাকেট তৈরি করে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা তারই একটি উদাহরণ। তবে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার থাকায় তাদের সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে ডিএনসি বগুড়া সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার এই চালানের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ডিএনসি জানিয়েছে, মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট, টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে শিবগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।