
মাহিদুল ইসলাম আউলিয়া (রংপুর)প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়া থেকে নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর আসাদুল (৩০) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের রুস্তমপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে তার ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আসাদুল রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের অভিরামনুরপুর গ্রামের আজিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় ভাড়া থেকে নিজের অটোরিকশা চালাতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে উপার্জনের উদ্দেশ্যে বের হন আসাদুল। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আর ঘরে ফেরেননি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সাভার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও তার সন্ধান চেয়ে পোস্ট করা হয়।
নিখোঁজের চারদিন পর গতকাল রুস্তমপুর এলাকার একটি পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি আসাদুলের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আসাদুলের অটোরিকশাটি ছিনতাই করার উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। দেড় বছর আগে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ঢাকায় আসা আসাদুল নিজের জমানো অর্থে একটি অটোরিকশা কিনেছিলেন।
আসাদুলের মৃত্যুর সংবাদ তার গ্রামের বাড়ি মিঠাপুকুরের অভিরামনুরপুরে পৌঁছালে সেখানে শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার। আসাদুলের একটি ছোট ছেলে রয়েছে, যার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। নিহতের পিতা আজিয়ার রহমান কান্নায় ভেঙে পড়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, “ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনসহ ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধার এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলছে।”