
লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাট- ১ও ২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনায় ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন, জামায়াত ইসলামী মনোনীত দাঁড়ি পাল্লার এবং ১১ দল সমর্থিত প্রার্থী মোঃ ফিরোজ হায়দার (লাভলু) ও ১ আসনের দাঁড়ি পাল্লার প্রার্থী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম রাজু । নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ওই ২টি আসনের সব কেন্দ্রের ভোট পূর্ণাঙ্গ পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারী বেলা ১১.০০ টায় আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী এলাকার গিলাবাড়ীতে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই দাবি জানান।
এর আগে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) লালমনিরহাট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন ২ প্রার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজ হায়দার লাভলু অভিযোগ করেন, ভোট গণনার সময় একাধিক কেন্দ্রে ফলাফলে চরম অসঙ্গতি দেখা গেছে। তিনি বলেন, “প্রাপ্ত ফলাফলের সঙ্গে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের সরবরাহ করা বিবরণী ও গণনাপত্রের কোনো মিল নেই। অনেক কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণায় উদ্দেশ্যমূলক বিলম্ব করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত তালিকায় অনেক ব্যালট প্রতিফলিত হয়নি বলে আমাদের সন্দেহ।”
লিখিত অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার ভেলাবাড়ি, দুর্গাপুর, কমলাবাড়ি ও গোড়োল ইউনিয়নসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে বিকেল সাড়ে ৫টার পর থেকে গণনায় অনিয়ম শুরু হয়। এ সময় তার নির্বাচনী এজেন্টদের সঙ্গে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও তার সদস্যরা অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন বলে তিনি দাবি করেন।
জামায়াত প্রার্থীর আরও অভিযোগ, কিছু কেন্দ্রে অস্বাভাবিক হারে ভোট বাতিল দেখানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ফলাফল শীটে এজেন্টদের কাছ থেকে আগাম স্বাক্ষর নেওয়া হলেও পরে তাদের স্বাক্ষরবিহীন শিট দেওয়া হয়েছে। এমনকি গণনার সময় ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের ব্যালট অন্য প্রতীকের বান্ডিলে ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
ফিরোজ হায়দার লাভলু বলেন, “সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পুনরায় ভোট গণনা করা হলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ওই আসনের সব কেন্দ্রের কাস্টিং ভোট পুনরায় গণনা করা জরুরি।”
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ভোটের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। আমরা এসব হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হব।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আসন পরিচালক ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, সাবেক জেলা আমীর এ্যাডভোকেট আবদুল বাতেন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হাফেজ শাহ আলম, জেলা জামায়াতের সদস্য সচিব আলাউল ইসলাম ফাতেমী, আদিতমারী উপজেলা থানা আমীর হায়দার আলী প্রমুখ।
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
এদিকে একই দাবীতে শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারী রাতে নিজ বাস ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লালমনিরহাট-১ আসনের ১১ দলীয় দাঁড়ি পাল্লার প্রার্থী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম রাজু গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্টিত নিবাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট গননায় ব্যাপক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন । মোঃআনোয়ারুল ইসলাম রাজু জানান, নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে এবং ১৩৭টি ভোট কেন্দ্রের গণনা সিটের ফটোকপি প্রমাণ হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক লালমনিরহাট বরাবর দাখিল করা আবেদনে হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার কাস্টিং ভোট পুনর্গণনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পুনরায় ভোট গণনা করা হলে প্রকৃত ফলাফল পরিবর্তিত হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।