
আব্দুল হালিম,বিশেষ প্রতিবেদকঃ
দুর্বৃত্তদের বিষে মাছের খামারের মাছ মারা গেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। দুই পক্ষই দাবি করেছেন- পাওনা টাকা না দেওয়ার কৌশল নিয়ে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগও হয়েছে। মিঠাপুকুর উপজেলার শুকুরেরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের গেনারপাড়া মৌজায় সাবেক ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলামের কিছু আবাদীয় জমি লীজ নিয়েছেন রানীপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জমির মালিক শফিকুল ইসলামের সাথে শেয়ারে ওই জমিতে ধানচাষ ও মাছ করেন। সম্প্রতি, শফিকুল ইসলামকে বাদ দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম একাই লীজ নেওয়া জমিতে মাছ ও ধানচাষ করেন। এ কারণে জমির মালিক তাঁর বিনিয়োগ করা টাকা দাবি করেন জাহাঙ্গীরের কাছে। কিন্তু, জাহাঙ্গীর টাকা পরিশোধ করেননি বলে স্থানীয়রা জানান। ইতোমধ্যে খামারের মাছ বিক্রয় করছেন জাহাঙ্গীর।
গত ২১ নভেম্বর সকালে এলাকাবাসী দেখতে পান, অবশিষ্ট কিছু মাছ পানিতে ভেসে উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে- কে বা কারা পানিতে বিষ ঢেলে দিয়েছে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। দুই পক্ষই অভিযোগ করেছে- প্রতিপক্ষ মাছের খামারে বিষ দিয়েছে।
জমি লীজ নেওয়া জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, সেখানে রুই,কাতল,মৃগেল, তেলাপিয়াসহ বিভন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেছিলাম। শফিকুলের লোকজন আমার কাছে ইতিপূর্বে টাকা দাবি করেছিল। আমি অর্ধেক টাকাও দিয়েছি। আর অর্ধেক টাকা দিতে অস্বৃতি জানালে শফিকুল তার লোকজন দিয়ে রাতের আঁধারে মাছগুলো লুট করে। পরবর্তীতে থানায় একটি চাদাবাজির মামলাও করেছি। এখন এই মামলার রেষ ধরেই পুকুরের অবশিষ্ট মাছ গুলো নিধনের জন্য বিষ প্রয়োগ করেছে। এতে আমার প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তবে, স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন ভিন্ন কথা। তারা বলেছেন, জাহাঙ্গীর আলমই খামারের মাছ ধরে বিক্রয় করেছেন। শফিকুল ইসলামের পাওনা টাকা দেওয়ার ভয়ে জাহাঙ্গীর পক্ষই খামারে বিষ দিয়েছে।
এলাকাবাসী আলহাজ্ব আবুল হোসেন বলেন, পুকুরের মাছ জাহাঙ্গীর আলম তার লোকজনসহ ধরে নিয়ে গেছে।
সাকি মিয়া বলেন, আমি ওই দিন ভোরে পুকুরের চারপাশে জাহাঙ্গীরের পক্ষের একজনকে ঘুরতে দেখেছি। আমার ধারণা, ওই লোক পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে। কারণ, অতো সকালে দুর থেকে সেখানে তিনি আসার কথা নয়।
মোকছেদ আলী, সুইট মিয়া, রায়হান, সাপিন বলেন , শফিকুল ইসলামের কাছে জমি নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম সেখানে ধান ও মাছ চাষ করেন। শুরুতে শফিকুল ইসলামও শেয়ার পার্টনার হিসেবে ছিলেন। পরে, তিনি শেয়ার থেকে সরে যান। কিন্তু পাওনা টাকা পাননি। পাওনা টাকার চাপ দিলেও দিচ্ছেন না জাহাঙ্গীর। এ কারণে তাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে টাকা পরিশোধ না করেই জাহাঙ্গীর আলম তার মাছ তুলে নিয়ে যান। কিছু মাছ পানিতে অবশিষ্ট থেকে যায়। পরে পানিতে বিষ ঢেলে দিয়েছে। এই বিষ ঢেলে দেয়ার কাজ জাহাঙ্গীরের বলে আমাদের মনে হচ্ছে।’ জুলফিকার আলি মিল্টন বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের কাছে শফিকুল ইসলাম টাকা পাওনাদার। শফিকুল মেম্বারের পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য আমি নিজে জাহাঙ্গীরের সাথে কথা বলেছি। জাহাঙ্গীর সময় নিয়েছেন। কিন্তু টাকা পরিশোধ না করেই জোর করে পুকুরের মাছ বিক্রয় করেছেন জাহাঙ্গীর। টাকা না দেওয়ার জন্য এখন পুকুরে বিষ দিয়েছেন।’ শফিকুল শফিকুল ইসলাম মেম্বার বলেন, ‘পুকুরসহ আশেপাশের জমিগুলো আমার ও আত্নীয় স্বজনের। সেখানে জাহাঙ্গীর ছিল ব্যবসায়ীক পার্টনার। তবে জাহাঙ্গীর কাছে জমি এবং পুকুর বাবদ ৩৯ হাজার টাকা বকেয়া পড়ে যায়। এমনকি জমির ধান গুলোও কেটে নিয়ে যায় জাহাঙ্গীর। পরে তার কাছে আমার বকেয়া পড়ে থাকা টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করতে থাকে। কিছুদিন আগে গভীর রাতে আঁধারে জাহাঙ্গীর আলম তার লোকজন দিয়ে সব মাছ তুলে নিয়ে গেছে। এর দুদিন পরে তারই ভাড়াটে লোক দিয়ে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছেন। এখন আমার উপরে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মিঠাপুকুর থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।