
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
গণমাধ্যম মানুষের আস্থার শেষ আশ্রয়স্থল উল্লেখ করে ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল বলেছেন, গুজব প্রতিরোধ ও সত্য প্রকাশে সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।প্রশিক্ষণ সেশনে প্রধান আলোচক হিসেবে হারুন জামিল বলেন, ‘বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের কারণে তথ্যের চেয়ে গুজব দ্রুত ছড়ায়। যখন জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, তখন সাধারণ মানুষ সত্য জানার জন্য প্রথাগত গণমাধ্যমের দিকেই তাকিয়ে থাকে। এই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে সাংবাদিকদের প্রতিটি সংবাদ প্রকাশের আগে তা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে।তিনি আরও যোগ করেন, সাংবাদিকতা কেবল তথ্য পরিবেশন নয়, বরং সমাজের প্রতি একটি বড় দায়বদ্ধতা। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে একজন সাংবাদিকের একটি ভুল সংবাদ বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। তাই আবেগ বা পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে উঠে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চা করা এখন সময়ের দাবি।কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন আমরা একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে চাই যেখানে ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবেন। জাল ভোট বা যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।’পিআইবি’র এই কর্মশালায় চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপনের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় প্রথম দিনের প্রশিক্ষক ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) শিক্ষক ও সাংবাদিক নাজিয়া আফরিন মনামী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন পিআইবি’র কর্মকর্তা সাহানোয়ার সাঈদ শাহীন।
দুই দিনের এই প্রশিক্ষণে নির্বাচনকালীন আচরণবিধি, সংবাদ সংগ্রহে নিরাপত্তা এবং নির্বাচনী আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শেষে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়