
স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার যে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক ধারা তৈরি হয়েছে, সেটিকে কোনো শক্তিই ব্যাহত করতে পারবে না—ইনশাআল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত এক কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কিছু মহল যুক্তি, বুদ্ধি ও হিকমার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে ভিন্ন ভিন্ন তকমা লাগানোর চেষ্টা করছে। উদ্দেশ্য একটাই—জনগণের দৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করা এবং আমাদের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করা। কিন্তু এ ধরনের অপপ্রচার দিয়ে সত্যকে ঢেকে রাখা যাবে না।
মাওলানা আবদুল হালিম আরও বলেন, ঈমান ও আকিদা বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। দলটির গঠনতন্ত্রে আল্লাহ, রাসূল (সা.), কুরআন ও সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ অনুসরণের কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে। আট দলের জোটের প্রতিও মানুষের আস্থা বাড়ছে। এই গণসমর্থনই প্রমাণ করে—ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের দাবিকে আর দমন করা যাবে না।
ইসলামী আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে তিনি বলেন, যত বেশি ত্যাগ ও কুরবানি দেওয়া হবে, নিয়ত যত বিশুদ্ধ হবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা হবে—আল্লাহ তায়ালা তত বেশি কঠিন জমিনকেও উর্বর করে দেবেন।
আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনশক্তিকে সংগঠিত করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে হবে। একটি গণজোয়ার সৃষ্টি করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।
রাজিবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবুল বাশার মো. আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সেক্রেটারি আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মী সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া একই দিন রৌমারী উপজেলায় পৃথক এক ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রৌমারী উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক হায়দার আলীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি প্রভাষক শাহাদাত হোসেনের পরিচালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুড়িগ্রাম জেলা আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নিজাম উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মো. শাহজালাল সবুজ, জননেতা আলহাজ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক এবং ছাত্রশিবির কুড়িগ্রাম জেলা সভাপতি মোশাররফ হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।