
নওগাঁ প্রতিনিধি:
দেশের ৬৪ জেলায় পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রতিবাদে নওগাঁয় প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় শহীদ মিনারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে এ কর্মসূচী পালিত হয়।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি আরমান হোসেন এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন- ফজলে রাব্বী, শাকিব হোসেন, মেহেদী হাসান সহ অন্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পূর্ব প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়েছিল:
১। লটারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংবাদমাধ্যমে পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ জনসম্মুখে সম্পূর্ণ করা হবে।
২।যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জেলাভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নিরপেক্ষভাবে পদায়ন হবে।
৩। কোনো রাজনৈতিক চাপ, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা গোষ্ঠীস্বার্থ প্রভাব ফেলবে না।
৪। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধা, পেশাদারিত্ব ও পূর্বের কর্মক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বক্তারা বলেন- বিসিএস ক্যাডার সকলেই মেধাবী ও যোগ্য। এজনা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কোন মানদণ্ডে যোগ্যতা নির্ধারণ করেছেন এটিও স্পষ্ট করেননি। পূর্বের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যা মাঠপর্যায়ের প্রশাসনকে অবাক করেছে এবং একই সাথে বিতর্কিত কিছু জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সুপারিশে নিয়োগ হওয়ার ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজিপির উপস্থিতি ছাড়া পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক সমন্বয়, নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং জনগণের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করা হচ্ছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কে সুষ্ঠুভাবে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য ৬৪ জেলায় যে পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ হয়েছে উপরোক্ত কারণে বৃথা হবে এবং নির্বাচনে উন্মুক্ত পরিবেশের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
পরে ৩দফা দাবী তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর জেলা প্রশাসক কাছে একটি স্মারকলীপি দেয়া হয়।
১। ৬৪ জেলার এসপি নিয়োগ প্রক্রিয়াটি পুনর্মূল্যায়ন করার নির্দেশ প্রদান করা ও সংবাদমাধ্যমে তা জনসম্মুখে তুলে ধরা।
২। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পূর্ব প্রতিশ্রুত নীতি-যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পুনরায় পদায়ন নিশ্চিত করা ও যোগাতার মানদণ্ড স্পষ্ট করা।
৩। ভবিষ্যতে পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করা। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার দূরদর্শী নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং ন্যায়সঙ্গত প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে ফলস্বরূপ আমরা একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন পাবো।