1. news@dainikalokitonews.com : দৈনিক আলোকিত নিউজ : দৈনিক আলোকিত নিউজ
  2. info@www.dainikalokitonews.com : দৈনিক আলোকিত নিউজ :
শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নওগাঁ সমাবেশে যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমান ভোটের বাক্সে হাত দিলে কলিজা ছিড়ে ফেলা হবে”- মাদারীপুরে হাত পাখা প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় বললেন বক্তা হোমনার কৃতি সন্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী দেলোয়ার মমিন ৫০ লক্ষ টাকার মানবিক সহায়তা প্রদান বরগুনার আমতলীতে সদর ইউনিয়নে ধানের শীর্ষের নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত চুয়াডাঙ্গায় নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ আমরা একাত্তরকে ভুলবো না, চব্বিশকেও না: মহাসচিব মির্জা ফখরুল বিমানের এমডির বাসায় নির্যাতিত শিশু,ক্ষুধার যন্ত্রণায় টিস্যু খেতাম শোবিজকে বিদায় জানালেন নওবা তাহিয়া, দ্বীনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত পিছু হটেছে মার্কিন রণতরী, চলে গেল ১,৪০০ কিলোমিটার দূরে

শান্তিকামী মানুষের প্রত্যাশা পরমাণবিক অস্ত্র মুক্ত পৃথিবী- ড. আব্দুল ওয়াদুদ

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৫১ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

আজ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরীক্ষা বিরোধী দিবস।
সারা বিশ্বে ২৯ আগস্ট পারমাণবিক পরীক্ষা বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বিশ্ববাসীর মধ্যে পরমাণু অস্ত্র বিরোধী সচেতনতা গড়ে তোলা এর মূল উদ্দেশ্যে। ২০০৯ সালের ২ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ সভার ৬৪তম অধিবেশনে ২৯ আগস্ট দিনটিকে পারমাণবিক পরীক্ষা বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

পারমাণবিক পরীক্ষা শুধু মানব সমাজেরই নয়, পরিবেশ, উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতেরও ব্যাপক ক্ষতি করে।

এই দিনে, জাতিসংঘ একটি ইভেন্টের আয়োজন করে যা পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা এবং বিস্ফোরণের প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করে এবং এই ধরনের পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তাকে আরও হাইলাইট করে।

বেশিরভাগ দেশ যারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে তারা তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের কার্যকারিতা এবং বিস্ফোরক ক্ষমতা পরীক্ষা করার জন্য পরমাণু পরীক্ষা চালায়। পারমাণবিক পরীক্ষা একটি দেশের পারমাণবিক শক্তির লক্ষণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ১৯৪৫ সালের জুলাই মাসে এবং ১৯৪৯ সালে প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন পারমানবিক পরীক্ষা করে। এটি ১৯৫২ সালে যুক্তরাজ্য, ১৯৬০ সালে ফ্রান্স এবং ১৯৬৪ সালে চীন দ্বারা অনুসরণ করা হয়েছিল। ভারত ১৯৯৮ সালে পোখরান-২ পরীক্ষা করেছিল যা ছিল দ্বিতীয়টি ভারত প্রথমবার পরীক্ষা করেছিল ১৯৭৪ সালে।

রেজোলিউশনে “পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার বিস্ফোরণ বা অন্য কোনো পারমাণবিক বিস্ফোরণের প্রভাব এবং পারমাণবিক অস্ত্র-মুক্ত বিশ্বের লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম উপায় হিসাবে তাদের বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা এবং শিক্ষা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে। দিবসটি জাতিসংঘ, সদস্য রাষ্ট্র, আন্তঃসরকারি ও বেসরকারী সংস্থা, একাডেমিক প্রতিষ্ঠান, যুব নেটওয়ার্ক এবং মিডিয়াকে একটি নিরাপদ বিশ্ব অর্জনের জন্য একটি মূল্যবান পদক্ষেপ হিসাবে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত, শিক্ষিত এবং সমর্থন করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা। প্রস্তাবের প্রস্তাবনায় জোর দেওয়া হয়েছে যে “মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের উপর ধ্বংসাত্মক এবং ক্ষতিকারক প্রভাব এড়াতে পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করা উচিত” এবং “পরমাণু পরীক্ষার সমাপ্তি হল পারমাণবিক পরীক্ষাগুলি অর্জনের অন্যতম প্রধান উপায়। একটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের লক্ষ্য।”

ট্রিনিটি নামক প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষাটি ১৬ জুলাই, ১৯৪৫ সালে নিউ মেক্সিকোতে একটি মরুভূমিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। ম্যানহাটন প্রকল্পের জে. রবার্ট ওপেনহেইমারের অধীনে পারমাণবিক প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছিল। প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষার পর, ১৯৪৫ সালের ৬ এবং ৯ আগস্ট যথাক্রমে হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা হয়, যা কয়েক লক্ষ মানুষের জীবন থামিয়ে দেয়। জাপানের সেই শহরগুলির পরের প্রজন্মগুলি বিকিরণ-প্ররোচিত ক্যান্সার এবং জন্মগত ত্রুটিতে ভুগছিল।
পরবর্তীতে, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন

শীতল যুদ্ধের পর্বে (১৯৪৭-১৯৯১) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা দেখা যায়।

পারমাণবিক পরীক্ষা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনে কারণ এটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ নির্গত করে যা সাধারণত বাতাসে এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৪৫ সাল থেকে বায়ুমণ্ডলে, ভূগর্ভস্থ বা জলের নীচে সমস্ত পরিবেশে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। এই পরীক্ষার অবশিষ্ট বর্জ্য অনেক বছর ধরে থাকে। বিকিরণের এক্সপোজার অঙ্গ, হাড়, ত্বক এবং চোখের ক্ষতি করতে পারে। বিকিরণ বিশেষ করে লিউকেমিয়া, থাইরয়েড, ফুসফুস এবং স্তন ক্যান্সারের মতো ক্যান্সারের প্রকোপ বৃদ্ধির সাথে যুক্ত। বিকিরণ একজন ব্যক্তির জিনেও মিউটেশন ঘটাতে পারে। এই জিনগুলি তাদের সন্তানদের কাছে আসতে পারে যার ফলে জেনেটিক ব্যাধি হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। পৃষ্ঠের তেজস্ক্রিয় পদার্থ উদ্ভিদের শিকড়ে প্রবেশ করতে পারে এবং ফলস্বরূপ প্রাণীদের দ্বারা গ্রাস করতে পারে। দূষিত গাছপালা এবং প্রাণীজ খাদ্যের উৎস হইতে প্রাপ্ত খাওয়া পরোক্ষভাবে মানুষের স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করতে পারে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা তার ছাপ ফেলেছিল পুরো বিশ্বে। মাত্র দুটি বোমা এ যুদ্ধের গতিপথ যেমন নির্ধারণ করে দেয়, তেমন পাল্টে দেয় যুদ্ধের ভয়াবহতা ও বীভৎসতার চিত্র। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি এয়ার ফোর্সের একটি বিমান থেকে ‘লিটল বয়’ নামে একটি বোমা ফেলা হয় জাপানের হিরোশিমা শহরে। এর তিন দিন পর ৯ আগস্ট ‘ফ্যাট ম্যান’ নামে আরও একটি বোমা ফেলা হয় জাপানের নাগাসাকি শহরে। এ দুটি বোমার বিস্ফোরণে মুহূর্তেই প্রাণ হারায় প্রায় ২ লাখ মানুষ। যাদের প্রায় সবাই বেসামরিক। তাৎক্ষণিক মৃত্যুর পরে বোমা দুটির তেজস্ক্রিয়তার ক্ষত বহন করছে শহর দুটির অসংখ্য মানুষ বছরের পর বছর । আদর করে ‘ফ্যাট ম্যান’ ও ‘লিটল বয়’ নাম রাখা হলেও এ দুটি বোমার ধ্বংসলীলায় পুরো বিশ্ব হতবাক হয়ে পড়ে। যুদ্ধে সাধারণ মানুষের এত করুণ মৃত্যু ইতিহাসে বিরল। ‍দুটি বোমাই ছিল পারমাণবিক অস্ত্র। বিশ্ববাসীরও সেই প্রথম এবং এখন পর্যন্ত শেষ পরিচয় পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহতার সঙ্গে। বিশ্বকে যেন আর এমন বীভৎসতার মধ্য দিয়ে যেতে না হয়, সেজন্য পারমাণবিক বোমার উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধের প্রশ্নে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই আলোচনা চলছে। পারমাণবিক অস্ত্রের ভান্ডার যাদের রয়েছে, সেই দেশগুলোরও উৎপাদন সীমিত করার প্রসঙ্গ ঘুরে ফিরে আসে আলোচনায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পারমাণবিক বোমা আবিষ্কার ও ব্যবহারের পর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমানে রাশিয়া) ২৯ আগস্ট, ১৯৪৯ সালে প্রথমবারের মতো এ অস্ত্র পরীক্ষা সম্পন্ন করে। এরপর ১৯৬১ সালের অক্টোবরে সোভিয়েত ইউনিয়নের চালানো আরেকটি পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণে তৈরি হয় মাশরুম আকৃতির বিরাট কৃত্রিম মেঘমালা; যা দেখা যায় ১৬০ কিলোমিটার দূর থেকেও। পারমাণব্কি বোমার মারাত্মক ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করেও এর উৎপাদন ও মজুদ থেকে পিছিয়ে আসেনি বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন যেমন পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষাকার্য অব্যাহত গতিতে চালাতে থাকে, সে ধারায়ই অংশ নিয়ে একে একে আরও ছয়টি দেশ গড়ে তোলে পারমাণবিক অস্ত্রের ভান্ডার। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়া নিয়ে ঘোষিত পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র আটটি। ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ও মজুদ গড়ে তুললেও প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি।

হিরোশিমা-নাগাসাকি মানব জাতির ইতিহাসে দগদগে ঘা হয়ে আছে। তা সত্ত্বেও পরমাণু অস্ত্রে শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের অস্ত্রভান্ডার থেকে পরমাণু শক্তি কমাতে চায় না। ব্যবহার থেকেও বিরত নয়। পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারই শুধু নয়, তার পরীক্ষায় সরাসরি মানুষের মৃত্যু না হলেও এর বিপুল ক্ষতি সহ্য করতে হয় প্রকৃতিকে। যার প্রভাব পড়ে মানবদেহেও। এজন্যই জাতিসংঘের ৬৪তম অধিবেশনে কাজাখস্তানের প্রস্তাবে প্রতি বছর ২৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরীক্ষাবিরোধী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২০০৯ সালের ২ ডিসেম্বর নেওয়া এ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য বিশ্বের সব দেশের মানুষের মধ্যে অস্ত্রবিরোধী সচেতনতা তৈরি করা। কাজাখস্তান প্রস্তাবটি এনেছিল ১৯৯১ সালের ২৯ আগস্ট তাদের পারমাণবিক পরীক্ষার সাইট বন্ধের কথা স্মরণ করে। এরপর ১৯৯৬ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি উত্থাপন হলেও মানব জাতির দুর্ভাগ্য, চুক্তিটিতে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর বড় অংশ, যাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা রয়েছে, তারা স্বাক্ষর করেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চুক্তিটি কার্যকর হতে পারেনি।

পারমাণবিক পরীক্ষাবিরোধী দিবসের উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো পারমাণবিক বোমা উৎপাদন, পরীক্ষা ও সংরক্ষণ করছে, তারা কি আদৌ সচেতন হয়েছে? আজ বিশ্বের অসংখ্য মানুষ ক্ষুধার্ত। খাবারের অভাবে অপুষ্টির শিকার অসংখ্য শিশু। প্রকৃতির ওপর ক্রমাগত অত্যাচারের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন যে সংকটের বার্তা প্রকাশ করছে, সেদিকে নজর না দিয়ে, ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে না দিয়ে বিলিয়ন বিলিয়ন অর্থের বিনিময়ে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো মজুদ করছে হাজার হাজার পারমাণবিক অস্ত্র। যাদের হাতে এ অস্ত্র নেই, তারাও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এই প্রাণঘাতী অস্ত্র তাদের ভান্ডারে যোগ করতে মরিয়া হয়ে উঠছে। কিন্তু তা প্রয়োগ হবে কার বিরুদ্ধে? মানবসভ্যতা ধ্বংসের জন্যই তো!

সম্প্রতি পশ্চিমা মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইল কাপুরুষোচিতভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে ইরানের সাহসী বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ ও লজ্জাষ্কর পরিণতির শিকার হয়েছে। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে টানা ১২ দিনের সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। এই সংঘাত নতুন করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, কোন কোন দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক এবং এই অস্ত্রগুলো কোথায় সংরক্ষিত রয়েছে? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলসহ নয়টি দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার হাতে রয়েছে বিশ্বের ৮৭ শতাংশ পারমাণবিক অস্ত্র ধারণা করা হয়, ৮৭ শতাংশ পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসঅঅইপিআরআই) ও ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস (এফএএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্বে ৯টি দেশের কাছে প্রায় ১২ হাজার ২৪১টি পারমাণবিক ওয়ারহেড (ক্ষেপণাস্ত্র) রয়েছে বলে জানা যায়।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ধারণা করা হয়, বাকি সাতটি দেশ—ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও ইসরায়েল মিলে মোট অস্ত্রের ১৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
অনেক পারমাণবিক ওয়ারহেডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়নি। প্রায় ৯ হাজার ৬১৪টি ওয়ারহেড সক্রিয় সামরিক ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত, যার মধ্যে ৩ হাজার ৯১২টি মোতায়েনকৃত কৌশলগত ও অ-কৌশলগত ওয়ারহেড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ এসব ওয়ারহেড আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, ভারী বোমারু ঘাঁটি বা স্বল্প-পাল্লার অস্ত্রবাহী ঘাঁটিতে সক্রিয় অবস্থায় আছে। পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলো তাদের সঠিক অস্ত্রের সংখ্যা গোপন রাখে, ফলে গবেষকরা অনুমানভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করে। কেবল যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স প্রকাশ্যে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা জানিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই স্বচ্ছতা কমেছে বলেও সতর্ক করে এসঅঅইপিআরআই।
মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর দেশ বলে ধারণা করা ইসরায়েলকে, তবে তারা কখনো পরমাণু অস্ত্র থাকা বা না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে এফএএস অনুযায়ী, ইসরায়েলের হাতে প্রায় ৯০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।

কোন কোন দেশে পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষিত আছে?
যদিও ৯টি দেশ পরমাণু অস্ত্রের মালিক, তবে আরো ৬টি দেশ নিজেদের মাটিতে অন্য দেশের পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ৫টি এবং রাশিয়ার হয়ে একটি দেশ। ন্যাটোর নিউক্লিয়ার শেয়ারিং চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র তার কিছু পরমাণু অস্ত্র ইতালি, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, তুরস্ক ও বেলজিয়ামে সংরক্ষণ করেছে। আন্তর্জাতিক নিউক্লিয়ার নিরস্ত্রীকরণ সংগঠন আইসিএএন বলছে, এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০০টি পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষিত আছে।
যদিও অস্ত্রগুলো সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, তবু এসব মিত্র দেশে রাখা এই অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারকে বোঝায়। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট-এর নিউক্লিয়ার পলিসি পরিচালক লুকাশ কুলেসা বলেন, ‘এই অস্ত্র সংরক্ষণ একদিকে যেমন প্রতিরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়, তেমনি ওই দেশগুলোর নিজস্ব অস্ত্র অর্জনের প্রলোভনও কমিয়ে দেয়।’ তিনি বলেন, ‘যদি অন্যদেশের মাটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্ত্র থাকে, তাহলে এই দেশগুলো তাদের নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র কেনার কথা বিবেচনা করবে না।’

২০২৩ সালের মার্চে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, তিনি প্রতিবেশি বেলারুশে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষণের পরিকল্পনা করেছেন। এর তিন মাস পরে জুনে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো জানান, তাদের দেশে রাশিয়ার অস্ত্র আসতে শুরু করেছে। তবে এসআইপিআরআই ও আইসিএএন বলছে, এই অস্ত্রগুলো বাস্তবে বেলারুশে রয়েছে কি না সেই বিষয়ে এখনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময় বিশ্বে মোট পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছিল। এরপর বহু বছর ধরে সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক সংঘর্ষ ও নিরাপত্তাহীনতায় নতুন করে অস্ত্র বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এসআইপিআরআই-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড্যান স্মিথ সতর্ক করে বলেন, ‘আগের চেয়ে বেশি জটিল ও বিপজ্জনক নতুন পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হতে যাচ্ছে।’লুকাশ কুলেসা জানান, এখনকার ৯টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর বেশিরভাগই মনে করে, পারমাণবিক অস্ত্র তাদের নিরাপত্তা নীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি সতর্ক করেন, ইসরায়েলের অস্ত্র ভাণ্ডার জেনে রেখেও হামলা হয়েছে, রাশিয়ার হুমকির পরও ইউক্রেনকে পশ্চিমা দেশগুলো সামরিক সহায়তা দিয়েছে—এগুলো প্রমান করে, পারমাণবিক অস্ত্র থাকলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না।
তিনি বলেন, ‘রক্ষা ব্যবস্থা যত বাড়ানো হচ্ছে, অপর পক্ষ সেটা দেখে নিজেদের অস্ত্র আরো বাড়ানোর যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছে। ফলে প্রতিরক্ষা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত একরকম অস্ত্র প্রতিযোগিতার চক্র তৈরি করছে।’ বিশ্ব এখন এমন এক সংকটময় মুহূর্তে দাঁড়িয়ে, যেখানে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নয়, বরং নতুন অস্ত্র সংগ্রহ ও প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

তবে প্রতিহিংসায় উন্মত্ত ও যুদ্ধে রক্তাক্ত পৃথিবীতে আশার কথা ২০২৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে জাপানি পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী সংস্থা ‘নিহন হিদানকিয়ো’।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ১১ অক্টোবর ২০২৪ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলে, “এ সংস্থাটি বিশ্বময় ‘হিবাকুশা’ নামে পরিচিত। জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের এ তৃণমূল আন্দোলন হিদানকিয়োকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রচেষ্টা এবং পারমাণবিক অস্ত্র যে আর কখনো ব্যবহার করা উচিত নয়, তা প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য নোবেল পুরস্কার দেওয়া হলো”

পারমাণবিক ধ্বংসলীলা যে কত ভয়ংকর তা ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকির মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। তাই তো পারমাণবিক বোমার হামলা থেকে বেঁচে থাকা সেখানকার মানুষজন বিশ্বব্যাপী এর বিরুদ্ধে জনমত গঠন করে চলেছে। পারমাণবিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে ‘হিবাকুশা’ নামে ডাকা হয়। বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক হামলার নির্মমতা, ভোগান্তি, ধ্বংসলীলা তুলে ধরার জন্য ১৯৫৬ সালে তারা প্রতিষ্ঠিত করে নিহন হিদানকিয়ো। জাপানের মানুষ মনে করেছিল হিরোশিমাও নাগাসাকির ধ্বংসক্রিয়া দেখে পৃথিবীর কোনো দেশ আর পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহের দিকে যাবে না। কিন্তু তাদের ধারণা ভুল প্রমাণ করে এ পর্যন্ত ২ হাজার বারের চেয়ে বেশি পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে পৃথিবীতে। তবে এ বছর পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী জাপানি সংস্থার নিহন হিদানকিয়োকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে নোবেল কমিটি মূলত পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করল।
নিহন হিদানকিয়ো নোবেল প্রাপ্তিতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এসব মানুষ নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য মানুষকে যে চরম মূল্য দিতে হয়েছে, সে সাক্ষ্য বহন করে চলেছেন তারা। এসব মানুষ যতটা স্পষ্ট দেখেছেন, সেই চোখেই পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহতাকে দেখতে হবে বিশ্বনেতাদের। এর মৃত্যুযন্ত্রণা কোনোভাবেই সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দিতে পারে না।
পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকিমুক্ত হওয়ার একমাত্র উপায়, সব পারমাণবিক অস্ত্র একসঙ্গে ধ্বংস করে ফেলা।’

বর্তমানে ফিলিস্তিন ও ইউক্রেনে যুদ্ধের যে ধ্বংসলীলা চলছে তা যেকোনো সময় মারাত্মক আকার এমনকি পারমাণবিক যুদ্ধের দিকেও ধাবিত হতে পারে। আর পারমাণবিক অস্ত্রের কঠিন পরিণতির কথা আমরা নিহন হিদানকিয়োর মাধ্যমে ইতোমধ্যে অবগত হতে পেরেছি। বিশ্বের পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ রাষ্ট্রগুলোর শুভ বোধের উদয় হোক পারমাণবিক বোমার ধ্বংসের মাধ্যমে। নিহন হিদানকিয়ো বিশ্বকে সেই স্বপ্নের দ্বারে পৌঁছে দিক। শান্তিকামী মানুষের প্রত্যাশা পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত একটি সবুজ পৃথিবী।

লেখক: ফিকামলি তত্ত্বের জনক
শিক্ষাবিদ, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ওয়াইল্ডলাইফ বিশেষজ্ঞ।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-২০২৬ আমাদের প্রকাশিত সংবাদ,কলাম,তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট