আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
চীনের সন্দেহভাজন এক নারী গুপ্তচরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগে মার্কিন কংগ্রেসের নজরদারির মুখে পড়েছেন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং। অভিযোগ উঠেছে, অ্যালিস হুয়াং নামের ওই নারীকে ব্যবহার করে চীনের গোয়েন্দারা জেনসেনের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন। তবে এনভিডিয়া ও চীন সরকার উভয়েই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর বিষয়টি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেনসেন হুয়াংয়ের প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত পরিসরে চীনা গোয়েন্দাদের কথিত যোগাযোগের বিষয়টি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে।
ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর ক্রিস কুন্স এ বিষয়ে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন, চীনা গুপ্তচর এবং এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ধনকুবেরদের মধ্যকার এই অদ্ভুত সম্পর্ক সম্পর্কে আমি যত বেশি জানছি, ততই আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত হচ্ছি যে বর্তমান প্রশাসনের সব কাজই দুর্নীতিমুক্ত। বিষয়টি তদন্ত করে এর জবাবদিহি নিশ্চিত করবে কংগ্রেস।’
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনসেন হুয়াং ও অ্যালিস হুয়াং নামের এক প্রযুক্তি নির্বাহীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। চীনের সঙ্গে ওই নারীর গোয়েন্দা যোগাযোগ নিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও অবহিত করা হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এমন বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে, যার ভিত্তিতে অ্যালিস হুয়াংকে চীনা গুপ্তচর বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান পার্টির কয়েকটি কমিটির চেয়ারম্যান জেনসেন হুয়াংকে ব্রিফিং দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যালিস হুয়াংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ধরন এবং এনভিডিয়ার সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চান তাঁরা। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তা মূল্যায়ন করাই তাঁদের উদ্দেশ্য।
নিউইয়র্ক টাইমস ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে অ্যালিস হুয়াংকে চীনা গুপ্তচর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়, জেনসেন হুয়াংয়ের ওপর নজরদারি এবং তাঁর ওপর প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে চীনের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ওই নারীকে বিশেষভাবে নিয়োগ করেছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে চিপ রপ্তানির অনুমতি আদায়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে জেনসেন হুয়াংকে রাজি করানো ছিল অ্যালিসের কথিত লক্ষ্য।
তবে এনভিডিয়া এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অ্যালিস হুয়াংয়ের সঙ্গে জেনসেন হুয়াংয়ের সম্পর্ক সাধারণ ব্যবসায়িক যোগাযোগের বাইরে কিছু ছিল না। তাঁর বা অন্য কারও সঙ্গে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বিনিময় করা হয়নি বলেও জানিয়েছে কোম্পানিটি।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত