আজ জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে কন্যাশিশুদের অংশগ্রহণের চিত্র বিশ্লেষণ করলে একদিকে যেমন অগ্রগতি দেখা যায়, অন্যদিকে তেমনি ঝরে পড়া নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। গত কয়েক বছরে সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ, বিশেষ করে উপবৃত্তির কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ছেলেদের সঙ্গে মেয়েদের শিক্ষায় অংশগ্রহণে লৈঙ্গিক সমতাও অর্জিত হয়েছে।
তবে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে উঠলেই চিত্রটি বদলে যাচ্ছে। এ পর্যায়ে মেয়েদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে না। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ উপাত্তে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার এখনো উদ্বেগজনক বলে উঠে এসেছে।
উপাত্ত অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে ছেলেদের ঝরে পড়ার হার প্রায় ৩০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অন্যদিকে মেয়েদের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ৩৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে এসে তাদের একটি বড় অংশ শিক্ষার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছে না।
মেয়েদের শিক্ষাজীবন থেকে ছিটকে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ বাল্যবিবাহ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ মেয়ে বাল্যবিবাহের কারণে পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
কন্যাশিশুর শিক্ষা শুধু তার নিজের ভবিষ্যৎ গঠনের বিষয় নয়, এর সঙ্গে একটি পরিবার, সমাজ ও দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নও জড়িত। তাই বিদ্যালয়ে মেয়েদের ভর্তি বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধরে রাখা, নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত