মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপে অন্তত আটজন মার্কিন সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও সম্প্রতি এক চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডেমোক্রেটিক সিনেটর কার্স্টেন জিলিব্র্যান্ডের প্রশ্নের জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পক্ষে দেওয়া ওই চিঠিতে হাং কাও জানান, লিংকনের মোতায়েন শুরুর পর থেকে পুরো স্ট্রাইক গ্রুপে মোট আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রণতরীর নাবিকদের পাশাপাশি বিমান শাখা, স্ট্রাইক গ্রুপ ও ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রনের সদস্য এবং সঙ্গে থাকা অন্যান্য নৌসদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত।
তবে এ মোতায়েনের সময় আত্মহত্যা করে কোনো সেনা মারা যাননি বলে চিঠিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
চিঠিতে কয়েকটি ঘটনার বিস্তারিতও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, গত আগস্টের শুরুতে বিমান শাখায় কর্মরত এক নাবিক জাহাজ থেকে সাগরে পড়ে যান। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরবর্তী চিকিৎসার জন্য জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর আগে মার্চে আরেক নাবিক সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করলে সহকর্মীরা তাঁকে আটকান। পরে তাঁকেও চিকিৎসা দিয়ে নিজ ঘাঁটিতে পাঠানো হয়।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে ইরানসংক্রান্ত সামরিক পরিস্থিতির কারণে এর মোতায়েনের সময় বাড়ানো হয় এবং রণতরীটি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। টানা ২৮৬ দিন সমুদ্রে থাকার পর সেপ্টেম্বরের শুরুতে এটি থাইল্যান্ডে যাত্রাবিরতি করে।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং জাহাজের সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গত আগস্টে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সে সময় খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত কিছু ঘাটতির কথাও সামনে আসে। নৌবাহিনী জানিয়েছে, দীর্ঘ মোতায়েনের সময় জাহাজটিতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য মনোবিজ্ঞানী, ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার, কাউন্সেলর, আচরণগত স্বাস্থ্যকর্মী ও চ্যাপলিনসহ বিভিন্ন জনবল ছিল।
এর আগে জাহাজটির পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ খারিজ করেছিলেন। হেগসেথ বলেছিলেন, জাহাজের পরিস্থিতি গণমাধ্যমে ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন’ করা হয়েছে।
সিনেটর জিলিব্র্যান্ড অবশ্য নতুন তথ্য প্রকাশের পর ওই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, আগে যেসব উদ্বেগকে ‘ফেক নিউজ’ বলা হয়েছিল, সেগুলো সেনাসদস্যদের জন্য গুরুতর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত