ভোলার লালমোহনে দক্ষিণ আইচায় টিউবওয়েলের (কল) কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাসুম নামের এক তরুণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে লালমোহন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলবাগিচা এলাকা থেকে নিহতের স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে চাইলে ঠিকাদার ও তার লোকজনের অবহেলা এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর চেষ্টা উন্মোচিত হয়।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজের ঠিকাদার মো. খোকন প্রথমে নিহতের পরিবারকে মাসুম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার খবর দেন। স্বজনেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আকুতি জানিয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে সেখানে উপস্থিত লোকজন বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, "এখানে আর কী হবে, যা হওয়ার হয়ে গেছে।"
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় মাসুমের মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে রাত ২টা পর্যন্ত টানা ১১ ঘণ্টা ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চালায় প্রভাবশালী চক্রটি। ঠিকাদার খোকনের অবহেলার কারণে এর আগেও তাঁর অধীনে কাজ করতে গিয়ে আরও এক শ্রমিকের অপমৃত্যু ঘটেছিল। সে সময় মোটা অঙ্কের জরিমানার বিনিময়ে পুলিশি ঝামেলা এড়িয়ে লাশ দাফন করা হয়। এবারও ঠিক একই কায়দায় রাতভর চেষ্টা চালিয়ে এবং পরে ঠিকাদার খোকনের ভাই পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি লালমোহন থানায় গিয়ে অনৈতিক আপস-মীমাংসার চেষ্টা চালান।
ঘটনার সত্যতা জানতে ঠিকাদার খোকনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে ঠিকাদার খোকন প্রথম দুইবার কল ধরে কোনো কথা না বলেই সংযোগ কেটে দেন এবং পরবর্তীতে তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে ঠিকাদার খোকনের পাঠানো এক প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সংবাদকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ লাশ ফেলে রাখার কারণ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। সে সময় ওই প্রতিনিধি দায়সারাভাবে বলেন, "আমরা দুজন মিলে একটা সমাধান করে ফেলব।" জানা গেছে, কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তিন পাতার একটি স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর নেওয়ার অপচেষ্টাও চালানো হয়।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত