ভোলা প্রতিনিধিঃ
ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন দূর-দূরত্ব থেকে আসা সাধারণ রোগীরা। তীব্র গরমের পাশাপাশি নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় চরমে পৌঁছেছে রোগীদের দুর্ভোগ। হাসপাতালের ভেতরে তিল ধারণের জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে রোগীরা বারান্দা ও মেঝেতে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিশেষ করে বিকেলের জরুরি বিভাগের দৃশ্য হাসপাতালের বেহাল দশার করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
সরেজমিনে ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিকেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। অথচ এই বিশাল সংখ্যক রোগীকে সেবা দেওয়ার দায়িত্বে থাকেন মাত্র একজন চিকিৎসক।
একা এত রোগীর চাপ সামলানোর বিষয়ে ওই চিকিৎসক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিকেলবেলা পুরো হাসপাতালের সমস্ত চাপ তাকে একাই সামলাতে হয়। একজন মাত্র চিকিৎসক দিয়ে এত বড় হাসপাতাল চালানো অত্যন্ত কষ্টকর এবং এতে তিনি মারাত্মকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
এদিকে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশও অত্যন্ত শোচনীয়। প্রচণ্ড গরমে রোগীদের নাভিশ্বাস উঠলেও অনেক ওয়ার্ডের ফ্যানই বিকল হয়ে পড়ে আছে। গরমে টিকতে না পেরে রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের দুটি লিফটের মধ্যে একটি সচল থাকলেও ভেতরে কোনো বাতি জ্বলে না, যা প্রায় অন্ধকারের মতো ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের ইলেকট্রিশিয়ান ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের চরম অবহেলার কারণেই এমন বেহাল দশা বিরাজ করছে। তারা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করায় সাধারণ চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন অসহায় রোগীরা।
হাসপাতালের এই নৈরাজ্য ও চরম অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্তি পেতে এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। অবিলম্বে সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন তারা
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত