আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম বেড়ে ৬ দশমিক ২৩ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে দেশটিতে ডিজেলের গড় দামে এমন উচ্চতা দেখা যায়নি।
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ১০৮ ডলার এবং মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৩ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়। সৌদির ওই পাইপলাইনে সাম্প্রতিক হামলার পর থেকেই বাজারে সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এটি কবে পুনরায় চালু করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানানো হয়নি।
এর পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। ফলে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটিও নতুন করে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে রবিবার বিকেলে যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, সেটিও স্থগিত করা হয়। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর স্বার্থেই বৈঠকটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, রিয়াদের অনুরোধে বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে।
মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রোববার মাত্র ১৪টি, শনিবার ১২টি, শুক্রবার ১১টি এবং বৃহস্পতিবার ৯টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা জ্বালানি বাজারেও। সোমবার দেশটিতে সাধারণ পেট্রোলের গড় দাম বেড়ে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সাধারণ জ্বালানির দাম ৪৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশেরও বেশি।
তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে ডিজেলের রেকর্ড মূল্য। কারণ ট্রাক, জাহাজ ও রেলপথে পণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার ব্যাপক। ফলে জ্বালানিটির দাম বাড়লে শুধু পরিবহন ব্যয়ই নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে সরবরাহ ব্যবস্থার প্রায় প্রতিটি স্তরে।
অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। কেপিএমজির প্রধান অর্থনীতিবিদ ডায়ান সোয়াঙ্ক সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ডিজেলের বাড়তি ব্যয় বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্য ও সেবার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত