বিশেষ প্রতিনিধিঃ
প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় রূপ আর জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রধান ভরসাস্থল ‘বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর’ (বিএমডি)। ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, কিংবা অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় একচ্ছত্র দায়িত্ব পালন করছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি ভূমিধস, বজ্রপাত ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস দেয়াও এর অন্তর্ভুক্ত।
সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগ, আধুনিক রাডার ও স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে আরও নির্ভুল ও সময়োপযোগী করে তোলা হয়েছে। পরিচালক মো. মমিনুল ইসলামের দক্ষ নেতৃত্বে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও আবহাওয়াবিদরা দিন-রাত নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সংগৃহীত জটিল বৈজ্ঞানিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জনমানুষের বোধ্যগম্য ভাষায় সময়মতো পৌঁছে দেয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
আবহাওয়া পূর্বাভাসের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো নিরবচ্ছিন্ন উপাত্ত সংগ্রহ। দেশের চারপাশের বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তন এক মুহূর্তের জন্যও চোখ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এর জন্য অধিদপ্তর জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে একটি শক্তপোক্ত পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক। সারফেস ও আপার এয়ার অবজারভেটরি- দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়ানো আবহাওয়া কেন্দ্রগুলো থেকে বায়ুমণ্ডলের চাপ, তাপমাত্রা, বাতাসের গতি ও দিক এবং আর্দ্রতার তথ্য প্রতি মুহূর্তে সংগ্রহ করা হয়।
রাডার ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি- আধুনিক ডপলার রাডার নেটওয়ার্ক এবং ভূ-স্থির উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত ছবি ব্যবহার করে মেঘের গতিবিধি, ঘূর্ণায়মান বাতাস ও বৃষ্টিপাতের মাত্রা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ণয় করা হয়। ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র- দেশের সিসমোলজিক্যাল সেন্টারগুলোর মাধ্যমে ভূ-কম্পনের তীব্রতা ও উৎপত্তিস্থল রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কেবল তথ্য সংগ্রহ করলেই কাজ শেষ হয় না, সংগৃহীত হাজারো এলোমেলো সংখ্যা ও ছবিকে একটি অর্থপূর্ণ পূর্বাভাসে রূপান্তর করেন বিএমডির মেটেরোলজিস্ট ও অফিসাররা। অফিসাররা কম্পিউটারাইজড সংখ্যাসূচক আবহাওয়া মডেল এবং রিয়েল-টাইম রাডার চিত্র বিশ্লেষণ করে আবহাওয়ার আসন্ন গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করেন। সাধারণ মানুষের জন্য দৈনিক আবহাওয়ার বুলেটিন তৈরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতের জন্য বিশেষায়িত জলবায়ু প্রতিবেদন তৈরি করেন তারা।
কোনো নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির পূর্বাভাস মিললে অফিসাররা ২৪ ঘণ্টা ‘ওয়ার রুম’-এ অবস্থান নিয়ে গতিপথ ট্র্যাকিং করেন। সঠিক সময়ে সংকেত জারি করে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় নীতি-নির্ধারকদের কাছে দ্রুত বার্তা পাঠান, যা হাজারো প্রাণ বাঁচাতে ভূমিকা রাখে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থাপিত বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির সূক্ষ্মতা বজায় রাখা, উপাত্ত ডিজিটালি রিকর্ড করা এবং দ্রুতগতির টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে তা ঢাকার হেডকোয়ার্টারে পাঠানোর কাজ পরিচালনা করেন কারিগরি দলের সদস্যরা। দৈনন্দিন সাধারণ পূর্বাভাস ছাড়াও দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বিশেষ সেবা দিয়ে থাকে। কৃষকদের জন্য বৃষ্টিপাত, খরা ও তাপপ্রবাহের আগাম বার্তা দেয়া হয়, যা বীজ রোপণ ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সরাসরি সাহায্য করে।
আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলের জন্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম ‘অ্যাভিয়েশন ওয়েদার রিপোর্ট’ নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি সামুদ্রিক ও নদীবন্দরগুলোর জন্য সতর্কসংকেত জারি করে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পরিচালক মো. মমিনুল ইসলামের যোগ্য পরিচালনায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এখন আরও আধুনিক ও ডিজিটাল রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে গবেষণা সেল পর্যন্ত প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। তাদের এই নিখুঁত ও নিষ্ঠাপূর্ণ কাজ কেবল দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতিই কমাচ্ছে না, বরং দেশের কৃষি, নীল অর্থনীতি এবং বিমান চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত