উলিপুর প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুরে পূর্ববিরোধের জেরে বসতবাড়িতে ঢুকে স্বামী-স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সবুজ মিয়া (৪০) ও তাঁর স্ত্রী ফলোয়ারা বেগম (৪০) আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন সবুজ মিয়া।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের টাপুরকুটি গ্রামে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের বাসিন্দা সবুজ মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার কয়েকজনের জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে তাঁকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গত ২৬ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে এরশাদুল হক, বাবর আলী, আব্দুল মজিদ, জাহিদুল ইসলাম ও ইসরাফিল মিয়া বাঁশের লাঠি ও দা নিয়ে দলবদ্ধভাবে সবুজ মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় গালিগালাজের একপর্যায়ে তাঁরা হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন সবুজ।
সবুজ মিয়ার অভিযোগ, হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তাঁকে লাঠি ও দা দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে দা দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হলে তিনি দুই হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন। এতে তাঁর মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। পরে তাঁকে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে মাথায় তিনটি ও হাতে দুটি সেলাই দেওয়া হয়।
এ সময় তাঁর স্ত্রী ফলোয়ারা বেগম ও ছেলে শিমুল ইসলাম (১৫) এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলোয়ারা বেগমের চুল ও কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলা, মাটিতে ফেলে মারধর এবং গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন সবুজ। এতে তাঁর স্ত্রীর হাতে আঘাত লাগে ও রক্তক্ষরণ হয়।
পরে চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সবুজ মিয়া বলেন,হামলার পর থেকে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত এরশাদুল হক। তাঁর দাবি, সবুজ মিয়ার জমিতে কীটনাশক ও ঘাস পোড়ানোর ওষুধ প্রয়োগের কারণে তাঁদের চাষ করা ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বিষয়ে তিনি ও তাঁর ভাই আব্দুল মজিদ সবুজের বাড়িতে কথা বলতে গেলে উল্টো তাঁদের মারধর করা হয়। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং পরে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। তাঁর ভাইকেও মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এরশাদুল হক আরও বলেন, সবুজ মিয়া ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। তাঁর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন,লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত