বিশেষ প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘদিন দেশজুড়ে চলমান গ্যাস সংকটে ভোগান্তি যেন কমছেই না। বাসাবাড়িতে বিকল্প ব্যবস্থা করা গেলেও বেশি সমস্যায় পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। গ্যাস নিতে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা কেটে যায় সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে। এতে রোজগারে ভাটা পড়েছে বলে অভিযোগ ও গ্যাসচালিত যানবাহনের চালকরা।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অপেক্ষা শেষে ৭০ থেকে ১০০ টাকার মতো গ্যাস পাচ্ছেন। এর ফলে দিনে একাধিকবার গ্যাস সংগ্রহে লাইনে দাঁড়ানো ও ট্রিপে না যেতে পারায় আয় কমেছে। এতে দৈনিক জমার টাকা পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে চালকদের।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর সাহিল ফিলিং স্টেশন, এবিএন সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন এবং হাফিজার ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড গ্যাস স্টেশন ঘুরে চালকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য মিলেছে।
সরেজমিনে প্রতিটি পাম্পে সিএনজি চালিত অটোরিকশা এবং প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এসময় সিরিয়াল ধরে একের পর এক যানবাহনে গ্যাস নিতে দেখা যায়।
সাহিল ফিলিং স্টেশনে কথা হয় গ্যাস সংগ্রহে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজি অটোরিকশাচালক আল-আমিনের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, আমি সাধারণত এখান থেকে গ্যাস নেই না। এয়ারপোর্ট স্টেশন থেকে গ্যাস নেই। যাত্রী নিয়ে এদিকে আসছি, গ্যাস কম থাকার কারণে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছি।
আল-আমিন বলেন, এখন গ্যাস নিতে গেলে মিনিমাম ২ ঘণ্টা সময় লাগে। যতটুকু গ্যাস প্রয়োজন সেই অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছি না। গ্যাস নিতে গেলে সাধারণত ৩০-৪০ টাকার গ্যাস পাই। শুনেছি এদিকের স্টেশনে গ্যাসের চাপ বেশি, এজন্য এখান থেকে গ্যাস নিতে এসেছি। দুই-তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে গ্যাস নিতে নিতেই অর্ধেক বেলা চলে যায়। গাড়ি বাবদ প্রতিদিন এক হাজার ১২০ টাকা জমা দিতে হয়। সারাদিন ট্রিপ টানলে ৪০০ টাকার গ্যাস লাগে। এরপর রোড খরচ আছে ৩০০ টাকা। এই খরচগুলো বাদ দেওয়ার পরে নিজের ইনকামের টাকা থাকবে। কিন্তু সারাদিন গ্যাস লাইনে বসে থেকে অনেকদিন জমা টাকার ভাড়াও টানতে পারি না।
জাহিদুর রহমান নামের আরেক সিএনজি অটোরিকশাচালক জাগো নিউজকে বলেন, শেওড়াপাড়া থেকে যাত্রী নিয়ে এসেছি। যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার পর গ্যাস কম থাকায় লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্যাসের পরিস্থিতি খারাপ ভাই। ঠিকঠাক গ্যাস পাচ্ছি না। দুই-তিন ঘণ্টা লাইনে থাকলে ১০০-১৫০ টাকার গ্যাস পাওয়া যায়। যদি যাত্রী থাকে তাহলে সহজেই এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকার ভাড়া পাওয়া যায়। আর যাত্রীরা না থাকলে ঘুরতে ঘুরতেই গ্যাস শেষ। দিনে অন্তত দুইবার গ্যাস নেওয়া লাগে। প্রতিবাদ দুই ঘণ্টা করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেই দিন শেষ হয়ে যায়।
একই ধরনের কথা জানান গ্যাস রিফুয়েলিং স্টেশনের কর্মীরা। তারা বলেন, গ্যাস সংকট অধিকাংশ যানবাহন চালকরা চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছেন না। এর ফলে দিনে একাধিকবার গ্যাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের।
সারাদেশে বর্তমান গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রতি দিন (এমএমসিএফডি)। তবে সরবরাহ কমায় প্রায় এক হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত