ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের সাবেক পেশকার আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ভুমি জরিপ ও খতিয়ান সংশোধনের কাজ করে দেওয়ার নামে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি চম্পট দিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এতে চরম ভোগান্তি ও দিশেহারা অবস্থায় পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ঘোড়াঘাট উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ভূমি জরিপের কাজ ২০০৪ সাল থেকে শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে মাঠ জরিপ, তসদিক, ৩০ ধারা ও ৩১ ধারার ধাপ পেরিয়ে বর্তমানে ২০২৬ সালে ৪২(ক) ধারার কাজ চলমান রয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক ধরে জরিপ সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের নাম করে সাধারণ জমি মালিকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ চলমান ৪২(ক) ধারার শুনানির অজুহাতে প্রায় অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে যান সাবেক পেশকার আশরাফুল ইসলাম। ভুক্তভোগীদের মধ্যে পৌর এলাকার কাদিমনগর গ্রামের গৌতম বাবুর নিকট থেকে ২ লাখ টাকা, বানিয়াপাড়ার বিকাশ চন্দ্রের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা, কাদিমনগরের মাহাবুবুর রহমানের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা এবং বাঘের হাটের কাপড় ব্যবসায়ী বৈদ্যনাথ সাহার কাছ থেকে ৩৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকার সচেতন মহলের মতে, ২০০৪ সাল থেকে ঘোড়াঘাটের সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ওই পেশকার কোটি টাকারও বেশি অর্থ অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই দুর্নীতির টাকায় তিনি বগুড়া শহরে চারতলা বিশিষ্ট বাড়ি ও গাড়িসহ বিপুল পরিমাণের অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত