বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সড়কপথে পাকুন্দিয়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় যান। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির উন্নত জাতের মাছের পোনা নদীতে অবমুক্ত করেন তিনি।
স্থানীয় জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করা, দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি বাড়ানো এবং নদনির্ভর জেলে সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
পোনা অবমুক্ত শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কটিয়াদী কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি হ্যাচারির বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং আধুনিক মাছ চাষ, প্রজনন ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় মৎস্য কর্মকর্তা, গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কার্পজাতীয় মাছের গুণগত মান বজায় রেখে প্রজনন কার্যক্রম আরও জোরদারের বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
দিনের পরবর্তী কর্মসূচিতে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক আছমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি। অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সফল মৎস্যচাষী, গবেষক, উদ্যোক্তা ও মৎস্য কর্মকর্তাদের ‘জাতীয় মৎস্য পুরস্কার’ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও বনায়ন কার্যক্রম জোরদারের বার্তা দিতে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পরে কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসংক্রান্ত সভায় যোগ দিয়ে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেবেন তিনি।
এর আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার পথে মহাসড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমান জানান, সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের অভিবাদনের জবাবে প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাঁদের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান।
দিনব্যাপী নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় সড়কপথে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।