স্টাফ রিপোর্টারঃ
বর্ষায় রূপ বদলেছে যমুনা, পাড়ে পর্যটকদের ঢল।
বর্ষা মৌসুমে কাজিপুরে যমুনার পাড়ে বিনোদন প্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় দিন দিন বাড়ছে।, কাজীপুর উপজেলার মেঘাই পর্যটন কেন্দ্র, পাটাগ্রাম জয়বাঁধ,খুদবান্দি খেয়াঘাট, মাইজবাড়ী এলাকার শহীদ এম মনসুর আলী ইকোপার্ক এখন মানুষে মুখরিত। যমুনার তীরে কিংবা জেগে ওঠা চরে নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, কিশোর-কিশোরী ও শিশুসহ নানা পেশার মানুষের মিলনমেলা বসেছে। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে এবং যমুনার হিমেল বাতাসের পরশ পেতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ছুটে আসছেন এখানে।
চরের নতুন রূপ ও বিনোদনের ঠিকানা: শুষ্ক মৌসুমে যমুনার পানি কমে গেলে জেগে ওঠা চরে স্থানীয়রা মরিচ, চিনাবাদাম, ভুট্টা, পাট, আখ ও শাকসবজি চাষ করেছিলেন। সেই নতুন চরই এখন বর্ষায় নদীবেষ্টিত হয়ে বিনোদনপ্রেমীদের নতুন ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যমুনার পাড়জুড়ে বিরাজ করে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।মেঘাই পর্যটন কেন্দ্রে মাএ পঞ্চাশ টাকা বিনিয়মে চরের মনোমুগ্ধকর কাশবনে আসা যাওয়ার সুব্যবস্হা রয়েছে। এছাড়া পঞ্চাশ টাকা দিয়ে স্পিডবোর্ডে নদীর মধ্যে ঘোরার ও সুব্যবস্হা রয়েছে। বালুচর পেরিয়ে খেয়া নৌকায় চড়ে দর্শনার্থীরা যমুনার বুকে কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগ করেন এবং নদীর মুক্ত বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে নেন।
নদীর বুকে ‘মিনি কক্সবাজার’: বর্ষায় থৈ থৈ জলে পূর্ণ যমুনা যেন এখন এক ‘মিনি কক্সবাজার’। সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও আশপাশের জেলা থেকে শত শত মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসছেন। নদীর বিশাল বুকে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো আর দর্শনার্থীদের পদচারণায় চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠেছে। কখনো মেঘলা আকাশ, আবার কখনো ঝলমলে রোদ—এমন পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার মাঝেই প্রকৃতিপ্রেমীরা যমুনার নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড়: কর্মব্যস্ততার ফাঁকে একটু প্রশান্তি পেতে শহর ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে মেঘাই পর্যটন কেন্দ্র, খুদবান্দি খেয়াঘাট, পাটাগ্রাম জয়বাঁধ,শহীদ এম মনসুর আলী ইকোপার্ক। শত শত মানুষ ট্রলার বা নৌকায় চড়ে জেগে ওঠা চরে চলে যাচ্ছেন, সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং স্বচ্ছ পানিতে নেমে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠছেন।
দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের অনুভূতি: শেরপুর ছোনকা থেকে আসা দর্শনার্থী রাসেদুল ইসলাম বলেন, “খুব সুন্দর একটি জায়গা। যমুনার পাড়ে এসে এক নিমিষেই মন-প্রাণ জুড়িয়ে যায়।”
মেঘাই পর্যটন কেন্দ্র এলাকায় পরিবার নিয়ে আসা রিমু জানান, “সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ছেলে-মেয়েদের একটু বিনোদনের জন্য নিয়ে এসেছি। মনের প্রশান্তির জন্য আমরা প্রায়ই এখানে আসি।”
বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসা জাফর ইকবাল জুলফি বলেন, “মেঘাই পর্যটন কেন্দ্র আমাদের জন্য নতুন এক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। নদীতে গোসল আর নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা সত্যিই দারুণ!”
স্থানীয় বিভিন্ন অফিসের কয়েকজন কর্মকার্তা জানান, ব্যস্ততা শেষে বিকেলে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে কিংবা অতিথি এলে তারা যমুনার পাড়েই নিয়ে যান। শহরের কোলাহল থেকে দূরে নদীর এমন স্নিগ্ধ পরিবেশ ও বাতাস এখানে সত্যিই কক্সবাজারের মতো অনুভূতির সৃষ্টি করে।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড