ফায়েজুল কবীর,মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ
মাদারীপুরে এবার প্রবাসী স্বামী নির্যাতনের করুণ কাহিনির ঘটনা ঘটেছে। ১৬ বছরের প্রবাস জীবনে মালয়েশিয়ায় হাড়ভাঙ্গা কঠোর পরিশ্রমের ঘাম ঝরাণো কষ্টার্জিত ২৬ লক্ষ স্ত্রীর নামে পাঠানো টাকার হদিস না পেয়ে দিশে হারা স্বামী। টাকার হিসাব চাইতে গেলে নিজের পরকিয়া ঢাকতে উল্টো স্বামী মোঃ বিল্লাল খান (৩৮) ও তার আপন বড়ভাই দাদন খান, ভাবী ও ভাতিজার নামে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছেন স্ত্রী নাসিমা আক্তার (৩২)। বুধবার (১৫ই জুলাই) সাংবাদিকদের কাছে এমন তথ্য ও ভিডিও সাক্ষাতকার প্রদান করে কথাগুলো সরাসরি বলছিলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের মধ্য হাউসদি হোসনাবাদ গ্রামের মৃত লাল মিয়া খানের পুত্র মোঃ বিল্লাল খান, তার আপন বড় ভাই ষাটোর্ধ মোঃ দাদন খান সহ উক্ত পরিবারের ভূক্তভোগীরা। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বরিশালের উজিরপুরের বাসিন্দা নাসিমা আক্তার এর সাথে বিল্লাল খানের প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে ২৬ বছর আগে বিবাহ হয়। এরপর রুটি-রুজির তাগিদে বেল্লাল খান ২০১০ সালের দিকে ১৬ বছর আগে মালয়েশিয়া চলে যান। সেখানে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে কষ্টার্জিত অর্থ ২৬ লাখ টাকা পাঠান। বেল্লাল খান লোক মারফত জানতে পারেন তার স্ত্রী পরকীয়ায় আসক্ত, এ খবর পেয়ে সম্প্রতি বাড়ী এসে ঘটনার সত্যতা পান এবং তার প্রেরিত টাকার হিসাব চাইতে গেলেই ঘটে সব বিপত্তি। টাকার হিসাব না দিয়ে স্ত্রী নাসিমা আক্তার উল্টো তার বিরুদ্ধে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি মাদারীপুর চীফ জুডিশিয়াল আদালতে স্থানন্তরিত হলে বিজ্ঞ আদালত থেকে সকল আসামীরা জামিন পান। ঘটনার বিবরণে আরও জানা যায়, পরকীয়া ঢাকতে নাসিমা আক্তার বিভিন্ন হুমকি-ধমকি সহ তার স্বামী বেল্লাল, ভাসুর দাদন খান ও তার স্ত্রী-সন্তানকে নানাবিধ মানসিক হয়রাণি করেন, এমনকি নিজে বিষ খেয়ে আত্মহত্যারও হুমকি দেন, গোয়ালঘরে তিনি আগুন লাগিয়ে দিলে ঘরটি সহ একটি গরু আগুনে পুড়ে আহত হয় । নিরুপায় হয়ে পরে গরুটি জবাই করতে বাধ্য হন বেল্লাল খানের পরিবার। এছাড়াও স্ত্রীর খারাপ আচরণ, পরকীয়ায় অতীষ্ট হয়ে মানসম্মান বাঁচাতে তার স্বামী মূল বাড়ি থেকে নেমে পার্শ্ববতী অন্য জায়গায় বাড়ী করেন । বর্তমানে উক্ত মামলায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এসআই মালমগীর হোসেন। মামলার কারণে বেল্লাল খান মালয়েশিয়া যেতে পারছেন না। স্ত্রী কর্তৃক টাকা আত্মসাতে এখন তিনি নিঃস্ব বলে জানান। কামাই-রুজি বন্ধ হওয়া, সংসারে অশান্তি, ১৮ বছরের ১ ছেলে ও ১২ বছরের ১ কন্যা সম্তানের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় তিনি এখন দিশেহারা। ঘটনার বর্ণনার সময় ক্রন্দনরত কন্ঠে তিনি পুলিশের কাছে সত্য উম্মোচনের লক্ষ্যে সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার পাবার আকুতি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে নাসিমা আক্তারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে বাড়ীতে পাওয়া যায়নি এবং তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড