ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
সিরাজগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পড়ে থাকা "জাতীয় জুট মিল" এর কোটি কোটি টাকার মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি ও সম্পদ দেখভালে প্রতিমাসে সরকারের খরচ পড়েছে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লক্ষ টাকা। এক সময়ের হাজারো শ্রমিকের কর্ম চঞ্চল্য ভরা এই রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানটি লোকসান অব্যবস্থাপনায় দফায় দফায় বন্ধ হওয়ায় থমকে গেছে এর উপর নির্ভরশীল শ্রমিকদের জীবন।সব জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত মিলটি পূনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মহীন শ্রমিকরা।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় রায়পুর এলাকায় ১৯৬০ সালে ৭৫ একর জায়গার উপর নির্মাণ করা হয় এই জুট মিলটি। এটি জাতীয়করণ হয়ে "জাতীয় জুট মিল" নামে পরিচিত পায়। দীর্ঘদিন লাভজনক থাকলেও দুর্নীতি, আমলা তান্ত্রিক জটিলতা ও অব্যবস্থাপনায় কারণে লোকসান পড়ে ২০০৭ সালে প্রথমবারের মিলটি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে শ্রমিকরা আন্দোলনের মুখে ২০১১ সালে পুনরায় চালু হলেও ২০২০ সালের ১লা জুন আবার এটি বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২২ সালের কুষ্টিয়ার রশিদ গ্রুপ লিজ নিয়ে উৎপাদন শুরু করলেও মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০২৪ সালে শ্রমিকরা বেতন ভাতা ও বোনাস বকেয়া রেখেই পুনরায় মিলটি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই চরম সংকটে পারে শ্রমিক কর্মচারীরা।
বর্তমানে জুট মিলটির মরিচা ধরা মেশিন ও কোটি টাকার যন্ত্রাংশে দেখভাল করার জন্য ১১৭৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছে। মিলের উৎপাদন বন্ধ থাকলেও তাদের নিয়মিত বেতন ও বিদ্যুৎ বিল সহ নানা খরচ মেটাতেই প্রতি মাসে সরকারের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে
জুট মিলটি বন্ধ হওয়ার পর বহু শ্রমিক বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছে। মিলের সাবেক কর্মচারী রফিক মিয়া জানান,মিল যখন চালু ছিল তখন প্রতিমাসে চার থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করতাম। সংসার ভালো চলত। মিলটি বন্ধ হওয়ার পর বাধ্য হয়ে ঘটকালির ব্যবসা করছি। এখনো তেমন উপার্জন ক্ষমতা না থাকাই খুব কষ্টে কৃষি কাজ করছি। আর এক শ্রমিক আনোয়ার জানান, এ জুটমিলটি পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস ছিল। মিলটি বন্ধ হওয়ার পর বউও ছেলে পেলে অনেক কষ্টের জীবন যাপন করছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় করন লুটপাটের কারণেই মিলটি বন্ধের মুখে পড়েছে। এবং হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়েছে। মিলটি পুনরায় চালু হোক এই দাবি সকল শ্রমিকদের।
জাতীয় জুট মিলের ব্যবস্থাপক সাজ্জাদ হোসেন বলেন,বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশন থেকে সিরাজগঞ্জ জাতীয় এ জুট মিলটি পরিচালনা হয়ে থাকে। মিলটি পুনরায় চালু হতে বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) থেকে লিজের জন্য চেষ্টা চলছে। কেউ নিজ নিলে মিলটি পুনরায় চালু হবে।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড