শরীফ ফায়েজুল কবীর,ষ্টাফ রিপোর্টঃ
মাদারীপুর সদরের চরমুগরিয়া বন্দর এলাকায় পূর্ব শত্রুতা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবেশীর ঘরে লাগা আগুন নেভাতে গিয়ে উল্টো সেই আগুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি হয়েছেন এক ব্যবসায়ী, তার ভাই ও সন্তান এবং জেলহাজতে যেতে হয়েছে এক যুবক-কে । বুধবার (১ লা জুলাই) সন্ধ্যায় এমনই জানিয়েছেন চরমুগুরিয়া বন্দর এলাকার ভূক্তভোগী ইদ্রিস মোল্লার পরিবারের লোকজন। ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাতে চরমুগরিয়া বাজারের বাসিন্দা আঃ জলিল মোল্লার একটি টিনের ঘরে হঠাৎ আগুন লাগে। ঘরটি ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন রেন্টু মিয়া নামের এক ব্যক্তি। অগ্নিকাণ্ডের সময় রেন্টু বা তার পরিবারের কেউ তখন ঘরে ছিলেন না এবং ঘরটি তালাবদ্ধ ছিল। আঃ জলিল মোল্লার এই টিনের ঘরটির ঠিক পাশেই অবস্থিত স্থানীয় ব্যবসায়ী ইদ্রিস মোল্লার একটি দ্বিতল ফ্ল্যাট বিল্ডিং। সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭ টার দিকে হঠাৎ ঘরটিতে আগুন জ্বলে উঠলে ইদ্রিস মোল্লা, তার ভাই রফিক মোল্লা এবং তার ছেলে আরিফ মোল্লাসহ পরিবারের সদস্যরা ও আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। একই সময় ইদ্রিস মোল্লার পুত্রবধূ ফায়ার সার্ভিসকে মুঠোফোনে খবর দেন। পরবর্তীতে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তা অন্যান্য বিল্ডিং বা টিনের ঘরগুলোতে ছড়াতে পারেনি। তবে তার আগেই টিনের ঘরটি ও ভেতরের মালামাল পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। আগুন লাগা প্রসঙ্গে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের গ্রুপ লিডার অ্যালেক্স রোজারিও এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রাথমিক ধারণামতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিন্ন মোড় নেয় পরিস্থিতি। ঘর মালিক আঃ জলিল মোল্লা বাদী হয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ এনে প্রতিবেশী ইদ্রিস মোল্লা, তার ভাই রফিক মোল্লা ও ছেলে আরিফ মোল্লাকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ইদ্রিস মোল্লার ছেলে আরিফ মোল্লা ইতিমধ্যে জেলহাজতে রয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে তদন্তে গেলে প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী আঃ কাইয়ুম শেখের স্ত্রী সেলিনা আক্তার জানান, ঘরটি তালাবদ্ধ ছিল, তাই কীভাবে আগুন লেগেছে তা নিশ্চিত বলা অসম্ভব। তবে আগুন লাগার পর সবার আগে ইদ্রিস মোল্লা ও তার পরিবারের লোকজনই আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। ইদ্রিস মোল্লার পুত্রবধূ নিজে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করেন এবং আগুন নেভাতে গিয়ে আহতও হন। অথচ জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে আজ তাদেরই মিথ্যা মামলায় ফাঁসান হলো-যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত । আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ইদ্রিস মোল্লারা যদি সেদিন অতিদ্রুত সবাইকে নিয়ে আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে না পড়তেন তবে ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই পুরো এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারতো। তাছাড়া আগুন ছড়ালে সবার আগে ক্ষতি হতো ইদ্রিস মোল্লার নিজের বহুতল ভবনের। নিজের ভবনের পাশে কেউ নিজে আগুন দেবে—এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। মামলায় ফেঁসে যাওয়া ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এই মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা। এই হয়রানিমূলক মামলার কবল থেকে মুক্তি পেতে এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংবাদকর্মীদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড