আমতলী প্রতিনিধিঃ
বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি রিপন কাজী (৩৫) হত্যাকাণ্ডে তার বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ,জমিজমা ও পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকার ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় রিপন কাজীকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রিপন কাজীর বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার ১নং গুলিশাখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কালীবাড়ী গ্রামের ভুট্টো কাজীর বড় ছেলে। তিনি ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, রিপন কাজী দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ ও জমিজমা নিয়ে বাপ চাচাদের বিরোধ চলছিল। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়েও রিপনের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই, গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রিফাত কাজীর বিরোধ ছিল। এসব বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে রিপনকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন নিহতের ছোট ভাই সাব্বির কাজী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের চাচাতো ভাই রাজিব কাজীর ভাষ্য, মঙ্গলবার রাতে তারা মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গগণখা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিপনের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার মুখে তিনি পাশের খালে লাফিয়ে পড়ে প্রাণে রক্ষা পেলেও রিপনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছোট ভাই সাব্বির কাজী অভিযোগ করেন, তার বাবা মিজানুর কাজী, চাচাতো ভাই রিফাত কাজী, সজিব কাজী এবং তাদের সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের মা আমেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের কঠোর বিচার চাই।
ঘটনার পর স্থানীয়রা জড়িত সন্দেহে মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামে দুইজনকে আটক করে আমতলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তাদের পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ঘটনাস্থল পটুয়াখালী সদর থানার আওতাধীন হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা সেখান থেকেই নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে নিহতের বাবা মিজানুর কাজীর ব্যবহৃত বলে জানা গেছে।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড