মশিউর রহমান, ব্রাক্ষণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদী থেকে জসিম মিয়া (৩০) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে কালিসীমা শালগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন তিতাস নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত জসিম মিয়া শহরের পুনিয়াউট এলাকার হাসিনাবাগ মনিপুরী বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি মুখলেস মিয়ার ছেলে। পেশায় নির্মাণ শ্রমিক হলেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের কাজ করতেন। তিনি স্ত্রী টুনি ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। সন্তানদের মধ্যে এক নবজাতকের বয়স মাত্র ১৫ দিন। এছাড়া তার আরও একটি ১২ বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। জসিমের নানা বাড়ি শহরের কাজীপাড়া এলাকায় এবং পৈতৃক বাড়ি নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের বাগুরা গ্রামে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে জসিম বাড়ি থেকে বের হয়ে দাতিয়ারা এলাকায় যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন শুক্রবার বিকেলে কালিসীমা শালগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশের তিতাস নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের মা হোসনে বেগম অভিযোগ করে বলেন, “গত বৃহস্পতিবার ভোরে জসিম বাড়ি থেকে দাতিয়ারা এলাকায় যায়। সেখানে আলামিন, তার ছেলে ইমন, সেন্টুর ছেলে রিফাতসহ আরও ৫-৬ জন তাকে মারধর করে নদীতে ফেলে দেয়। পরে নদীর পাড়ে থাকা ইটের টুকরা দিয়ে তার দিকে ঢিল ছোড়া হলে সে পানিতে ডুবে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। শুক্রবার বিকেলে কালিসীমা শালগাঁও স্কুলের পাশের তিতাস নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে গিয়ে আমরা মরদেহ শনাক্ত করি। আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে নবীনগরের ছলিমগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. নুর হায়দার তালুকদার বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর মারা যান। তবে মরদেহে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড