আলোকিত নিউজ ডেস্কঃ
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে নিতে তিন দিনের সফরে আজ ঢাকায় আসছেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ। তার এ সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (আর্ট) বাস্তবায়ন এবং রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়টি।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে সচিবালয়ে বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। পরে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
আর্ট চুক্তি বাস্তবায়নে জোর
যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, সদ্য স্বাক্ষরিত রেসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (আর্ট) দ্রুত এবং পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হোক। ওয়াশিংটনের মতে, এ চুক্তি কার্যকর হলে দুই দেশের বাজারে প্রবেশ সহজ হবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমবে।
তবে বাংলাদেশে এ চুক্তি নিয়ে নীতিগত বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে আমদানি নীতি নতুন করে সাজানোর চাপ এবং চুক্তির শর্তাবলি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘অতিরিক্ত উৎপাদন’ ও শ্রম ইস্যুতে চাপ
সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ‘অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা’ এবং ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ইস্যুতে বাংলাদেশকে চাপে রাখছে। ইতোমধ্যে ট্রেড অ্যাব্ট অব ১৯৭৪ সেকশন ৩০১-এর আওতায় তদন্ত শুরু করেছে ওয়াশিংটন। এতে বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও সিমেন্ট খাতকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও, চলতি মাসে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে—যা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
রাশিয়ার তেল নিয়ে সংবেদনশীল আলোচনা
বৈঠকে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। আর্ট চুক্তির আওতায় এ ধরনের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য—দুই দিকই বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে ঢাকাকে।
একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
সফরকালে মার্কিন প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করবে। পাশাপাশি শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্ব
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। চলতি অর্থবছরে এ বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৬৯ কোটি ডলার, যা মোট রপ্তানির উল্লেখযোগ্য অংশ। ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ভারসাম্য, বাজার প্রবেশাধিকার এবং নীতি সমন্বয় সবই এই সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
মার্কিন প্রতিনিধির এ সফর শুধু একটি নিয়মিত কূটনৈতিক সফর নয়; বরং এটি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আর্ট চুক্তি, শ্রমমান এবং জ্বালানি নীতির মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড