ঘোড়াঘাট প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে চাঞ্চল্যকর গরু চুরির ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করেছে থানা পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গরু চোর চক্রের মূল হোতাসহ ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান এবং গরু বিক্রির নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে দিবাগত রাতে উপজেলার নূরপুর (রাণীগঞ্জ) গ্রামের মাহাবুবুল আলম শিপনের গোয়াল ঘর থেকে ১টি শাহীওয়াল জাতের গর্ভবতী গাভী ও ১টি ফ্রিজিয়ান বকনা বাছুর চুরি হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় ৩ মে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী কৃষক।
মামলা দায়েরের পরপরই ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম তদন্তে নামে। তথ্য ও সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে মাহমুদুল হাসান মুন্না (২৮) নামে এক যুবককে শনাক্ত করে পুলিশ। ৩ মে রাতে তাকে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেরিয়ে আসে পুরো চক্রের নাম। পরে ৪ মে ভোররাতে অভিযান চালিয়ে চক্রের মাস্টারমাইন্ড মো. কাওসার ইসলামকে (৩০) তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা জানায়, চুরির পর তারা গরু দুটিকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা হাটে ৯৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। গরু চুরির মিশনে ব্যবহৃত পিকআপটি (বগুড়া ন-১১-১৮৩১) পুলিশ উদ্ধার করেছে। চক্রের মূল হোতা কাওসার একজন পেশাদার চোর। তার বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট থানায় আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। মূলত টাকার বিশেষ প্রয়োজন হওয়ায় কাওসার তার সহযোগীদের নিয়ে এই চুরির পরিকল্পনা করে।
গ্রেফতারকৃত ৫ জন হলেন, উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দেবীপুর এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে (গ্যাং লিডার) কাওসার ইসলাম (৩০), উপজেলার একই ইউনিয়নের কশিগাড়ী মধ্যপাড়া এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে মাহমুদুল হাসান মুন্না (২৮), উপজেলার একই ইউনিয়নের মৃত জাহিদ মোল্লার ছেলে (পিকআপ চালক) সুভেল মিয়া (৩০), উপজেলার একই ইউনিয়নের দক্ষিণ দেবীপুর (আল-হেরা স্কুল সংলগ্ন) এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে আল রাহিদ আপন (২৫), উপজেলা পালশা ইউনিয়নের বেলোয়া নয়নদিঘী এলাকার ফারুক ইসলামের ছেলে ফাহিম ইসলাম (২৫)।
ঘটনার বিষয়ে হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আ. ন. ম নিয়ামত উল্লাহ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, "গত ২ মে উপজেলার নুরপুর গ্রামের মাহাবুবুল আলম শিপনের বাড়ি থেকে একটি গাভী ও একটি বকনা বাছুর চুরি হয়। ঘটনাটি জানার পর থেকেই ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা এই আন্তঃজেলা চোর চক্রের অবস্থান শনাক্ত করি এবং চক্রের ৫ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।"
তিনি আরও জানান, "অভিযান চলাকালীন আমরা আসামিদের কাছ থেকে চুরি করা গরু বিক্রির ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছি। এছাড়া গরু পরিবহনে তারা যে পিকআপ ভ্যানটি ব্যবহার করেছিল, সেটিও জব্দ করা হয়েছে।"
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে,তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘবদ্ধভাবে চুরির কাজ করে থাকে। তাদের নামে ইতিপূর্বে ট্রান্সফরমার চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তারা মূলত একটি বড় চোর চক্রের সদস্য হিসেবে নিয়মিত এই অপরাধের সাথে জড়িত। গ্রেফতারকৃত আসামিদের সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকায় অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড