বিকাশ কুমার দাস,স্টাফ রিপোর্টারঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় সাংবাদিক শাহিবুল ইসলাম পিপুলকে (৩৬) মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার ভাই ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাঙ্গুড়া পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন পিপুল।
শাহিবুল ইসলাম পিপুল উপজেলার পাথরঘাটা (রোকনপুর) গ্রামের গোলজার হোসেনের ছেলে। তিনি দৈনিক যুগান্তরের ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি এবং বাংলা ট্রিবিউনের পাবনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। অভিযুক্ত মো. শরীফ হোসেন ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজের ছোট ভাই।
থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে পিপুলের ছোট ভাই ইয়াসিন আলী সামিকে (২৩) হাসপাতাল পাড়া সংলগ্ন শিশু কুঞ্জ থেকে তুলে নিয়ে যান কলেজপাড়া এলাকার ছাত্রদলের নেতা ফিরোজ, হাসিব, মারুফ ও আল-আমিনসহ কয়েকজন। সামিকে ভাঙ্গুড়া মহিলা কলেজের সামনে নিয়ে মারধর করা হয়।
এ সময় পাবনা শহরে অবস্থান করা সাংবাদিক পিপুল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ভাঙ্গুড়া থানার ওসিকে জানিয়ে দ্রুত সহায়তা চান। ওসি ভাঙ্গুড়া থানার এসআই আল-আমিন হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পিপুলের ছোট ভাইকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
সাংবাদিক শাহিবুল ইসলাম পিপুল বলেন, ‘আমার ভাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিই। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মোবাইলে বাহার নামে এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে আমার অবস্থান জেনে নেন এবং পোস্টের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। এরপর ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিসমিল্লাহ হোটেলের সামনে পৌঁছালে দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তি আমার পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন। পরিচয় দিলে ওই দুই ব্যক্তি বলেন, আমরাই তোর ভাইকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলাম। তুই ফেসবুকে কী লিখেছিস বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। ওই সময় আরেকটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন দেন ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলামের ছোট ভাই শরীফ। কল রিসিভ করার পর জানতে চান, তুই কোথায় আছিস। ভাঙ্গুড়া সিএনজি স্ট্যান্ডে জানালে শরীফ ও তার ১৫-২০ জন সহযোগী আমার ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এ অবস্থায় সেখান থেকে দৌড়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে গিয়ে আশ্রয় নিই।’
থানায় দেওয়া অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই সময় ভাঙ্গুড়া থানার এসআই আল-আমিন হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে এ ঘটনায় ভাঙ্গুড়া থানায় শরীফের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শরীফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ওই সাংবাদিকের ভাই সামি আমাদের তিন জন ছেলেকে মেরে হাসপাতালে পাঠিয়েছিল। আজকে তারা সামিকে জিজ্ঞাসা করেছে ওই সময় তাদের ক্ষতি করেছিল কেন? খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। গিয়ে দেখি পুলিশও সেখানে আছে। তাকে একটা টোকাও দেয়া হয়নি। অথচ ফেসবুকে আমাদের বেদেপাড়ার ছেলেদের কটাক্ষ করে পোস্ট দেন ওই সাংবাদিক। তাকে ফেসবুক থেকে পোস্টটি ডিলিট করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সেটা করেন নাই। এটা নিয়ে ছেলেপেলেরা ক্ষুব্ধ ছিল। তিনি ঘটনাস্থলে এলে তার সঙ্গে আমাদের ছেলেদের একটু হাতাহাতি হয়।’
এ ব্যাপারে ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজ বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু আমার ভাই মারামারির করার মতো ছেলে নয়। আমি অন্যায়কে প্রশ্রয় দিই না। আপন ভাই হলেও ছাড় দিই না। ঘটনার সঙ্গে আমার ভাই জড়িত নয়। ছাত্রদলের ছেলেদের সঙ্গে আগের কোনও ঘটনা নিয়ে ছাত্রলীগের একটা ঝামেলা ছিল। সেটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। আবার সেটার সমাধান হয়ে গেছে পুলিশের উপস্থিতিতে। মূলত সাংবাদিক পিপুল ফেসবুকে নাকি জাতি তুলে একটা পোস্ট দিয়েছিলেন। সেটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে মারামারি হয়নি। আমি দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধান করার চেষ্টা করছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, ‘সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড