শিক্ষা ডেস্কঃ
আজ থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। পরীক্ষায় এবার মোট শিক্ষার্থী ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্ধারিত কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরীক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। এবারই প্রথমবার পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে থাকছে সিসিটিভি ক্যামেরা। বাংলা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এবারের মাসব্যাপী এ পরীক্ষার সূচনা হচ্ছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চলবে ২০ মে পর্যন্ত।
পরীক্ষা নকল ও প্রশ্নফাঁসমুক্ত রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবার নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি সব কেন্দ্রেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং এসব ক্যামেরার ফুটেজ কমপক্ষে ৩০ দিন সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে লাইভ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) যুক্ত করে চালু করা হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ।
এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তাদের মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩১৮, মাদ্রাসা বোর্ডে (দাখিল) ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৬ এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।
এবার পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফয়েল প্যাক ও বিশেষ নিরাপত্তা খাম ব্যবহার করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে নির্ধারিত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ খাম খোলা হবে। প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
অনিয়ম প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ টিম গঠন করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন কেন্দ্রে আকস্মিক পরিদর্শন করবেন। কোনো অনিয়ম বা প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে দুর্গম এলাকায় দ্রুত তদারকিতে বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে নকল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কেন্দ্র সচিব, পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি কেন্দ্রের ওয়াশরুম নিয়মিত তল্লাশি করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্নফাঁস ও অনিয়ম ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি : সচিবালয়ে সোমবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রশ্নফাঁস ও অনিয়ম ঠেকাতে সাইবার অপরাধের দিকেও বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র থানা থেকে যারা গ্রহণ করেন, তাদের তালিকা সংগ্রহ করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এছাড়া একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম ঘটলে দ্রুত শনাক্ত করা যায়। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও চালু করা হয়েছে, যেখানে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) যুক্ত আছেন।
প্রশ্নফাঁস প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বিতরণব্যবস্থার অনেক কিছুই পূর্ববর্তী সরকারের সময় নির্ধারিত ছিল, বর্তমান সরকার মূলত পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। তবে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা সচল আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পাবলিক পরীক্ষা আইন ১৯৮০ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এতে ডিজিটাল অপরাধের বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার আওতা ও কাঠামোতেও কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ রয়েছে।
খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষকদের যথেষ্ট সময় দিয়ে খাতা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মূল্যায়ন পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ হচ্ছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে ‘মানবিক নম্বর’ দেওয়ার জন্য কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলেও তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, জনবান্ধব সরকার ছাত্রছাত্রীদের মন থেকে ‘পরীক্ষাভীতি’ শব্দটি দূর করতে চায়। সম্মানিত অভিভাবকদেরও আশ্বস্ত করতে চাই-আপনারাও সন্তানদের নিয়ে অকারণে আতঙ্কিত হবেন না।
এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্র সচিবদের জন্য একাধিক নির্দেশনা জারি করেছে। ঢাকা বোর্ডের ৩১ দফা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষা শুরুর পরপরই কেন্দ্রের ওয়াশরুম তল্লাশি করতে হবে এবং প্রতি আধা ঘণ্টা পর তা পরিদর্শন করে পরিষ্কার রাখতে হবে। কোনো কেন্দ্রের ওয়াশরুমে নকল পাওয়া গেলে এর দায়ভার কেন্দ্র সচিবকেই নিতে হবে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিতের নির্দেশ : এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে আয়োজন করতে পরীক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রগুলোয় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা। মঙ্গলবার বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এসএম কামাল উদ্দিন হায়দারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড