রাষ্ট্র পরিচালনা ইমোশন বা আবেগ দিয়ে হয় না-বিএনপি যা বলে তাই করে”- সমাজকল্যাণ মন্ত্রী প্রফেসর ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেন
প্রকাশিত:
শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
১১০
বার পড়া হয়েছে
দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুর: মানবিকতার এক মৃদু আলোর মতোই এদিন ভেসে উঠেছিল প্রতিশ্রুতির দৃঢ় উচ্চারণ। সমাজকল্যাণ, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, জাতীয় সনদ—যেটি সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি সই করেছে—তা একটি জাতীয় দলিল। বিএনপি সেটিকে সম্মান করে এবং তা বাস্তবায়ন করবে। বিএনপি তার নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে যা বলেছে, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। আমরা নিয়মের মধ্যে সবকিছু করতে চাই। বিএনপি জানে, রাষ্ট্র পরিচালনা ইমোশন বা আবেগ দিয়ে হয় না।
দিনাজপুর শিশু একাডেমী মিলনায়তন-এ আয়োজিত বেসরকারি এতিমখানা ও আশ্রমের মাঝে ক্যাপিটেশন গ্রান্টের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন—কথাগুলো যেন শুধু উচ্চারণ নয়, বরং রাষ্ট্রচিন্তার গভীর সুর।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি যে ম্যানিফেস্টো দিয়েছে, জনগণ তাতে সমর্থন দিয়েছে, যার ফলে দলটি ক্ষমতায় এসেছে। যে জনগণ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে, সেই জনগণের সঙ্গে কখনো প্রতারণা করা হবে না। যারা ছলচাতুরির অভিযোগ তোলে, তাদের অতীতই তাদের জবাব দেয়—কারণ বিএনপি যা বলে, তাই করে; এটাই তাদের ইতিহাস।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে বলেন, “বিগত সরকার বিভিন্ন অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে যে সমস্ত ক্রাইটেরিয়ায় সুবিধাভোগী নির্বাচন করেছে, তার ৭০ শতাংশ ভুয়া—যা আমাদের সংশোধন করতে হচ্ছে।” তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান, এতিমখানার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা যেন শিশুদের নিজের সন্তানের মতো করে লালন-পালন করেন।
এছাড়াও তিনি নির্দেশনা দেন, সমাজসেবা ও অন্যান্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা যেন নিয়মিত সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এতিম শিশুদের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই দুর্ব্যবহার করা যাবে না—এই বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি মানবিকতার চিরন্তন বাণী উচ্চারণ করেন, “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।”
জেলা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-২ আসনের সাংসদ সাদিক রিয়াজ পিনাক, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আখতারুজ্জামান জুয়েল, প্রচার সম্পাদক বাবু চৌধুরীসহ বিভিন্ন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জেলার ১০৬টি বেসরকারি এতিমখানা ও আশ্রমের মাঝে মোট ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার টাকার ক্যাপিটেশন গ্রান্টের চেক বিতরণ করা হয়—যেন প্রতিটি অনুদান একটি করে আলোকরেখা, যা অন্ধকারের ভেতর থেকে ভবিষ্যৎকে ডেকে আনে।
এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন অসহায় শিশুদের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিশ্রুতি, শুদ্ধতা ও মানবিকতার এক সুরেলা সমন্বয়ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।