দিনাজপুরে এনজিও কর্মী গণধর্ষণ মামলার এজাহার নামীয় আসামি র্যাবের অভিযানে ঢাকা থেকে গ্রেফতার
প্রকাশিত:
শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
৫৮
বার পড়া হয়েছে
ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। গণধর্ষণের মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে এই ধারাবাহিকতায়।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহারসূত্রে জানা যায় যে, মামলার ভিকটিম ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর রানীরবন্দর শাখার একজন এনজিও কর্মী। এনজিও কর্মী হওয়ার সুবাদে অত্র মামলার ০১ নং আসামি মোঃ আতিকুল ইসলাম (২৪) ভিকটিমের ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে ৫-৬ জন ব্যক্তি পলিসি করবে বলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অবগত করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৮/০১/২০২৬ তারিখ ০১ নং আসামি কয়েক দফা ফোন করে কৌশলে ভিকটিমকে চিরিরবন্দর থানাধীন ০১ নং নশরতপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত কোম্পানীর মোড় হতে নশরতপুর ফকিরপাড়াগামী পাকা রাস্তা সংলগ্ন জনৈক উত্তম কুমারের ভুট্টা ক্ষেতের পাশ দিয়ে কথিত গ্রাহকের বাড়িতে যাওয়ার সময় দুপুর ০১.৩০ ঘটিকায় আসামিদের পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আগে থেকে ওৎপেতে থাকা মামলার ২-৬ নং আসামিগণ জোরপূর্বক ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে এবং মামলার ০২ নং আসামি ধর্ষণের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারন করে। এক পর্যায়ে ভিকটিম অসুস্থ হয়ে পড়লে আসামিগণ ভিকটিমকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিম আসামিদের বিরুদ্ধে দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে গণধর্ষণ মামলা রুজু হয়। যার মামলা নং-২২, তারিখ- ৩০/০১/২৬ ইং, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ৯(৩), তৎসহ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এর ৮(১)/৮(২)/৮(৭)। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সিপিসি-১, দিনাজপুর এবং র্যাব-০৪, সিপিসি-২, সাভারের যৌথ অভিযানে ইং ০৪/০৪/২০২৬ তারিখ দুপুর ১২.২০ ঘটিকায় ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন জিরাবো তৈয়বপুর রোডে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারনামীয় ০৫ নং আসামি মোঃ ফরিদুল ইসলাম ওরফে হুলু (২৫), পিতা- মাজেদ আলী, সাং- নরশতপুর (মাছুয়াপাড়া), থানা- চিরিরবন্দর, জেলা- দিনাজপুর’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি গণধর্ষণ,অপহরণ, রাহাজানি,মাদক,হত্যা, চোরাকারবারীসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে।