মাহিদুল ইসলাম আউলিয়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
রংপুরের মিঠাপুকুরে যৌতুকের টাকার জন্য স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়েছেন এক গৃহবধূ। নির্মম নির্যাতন চালিয়ে তাকে নবজাতক সন্তানসহ এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে পাষন্ড স্বামী। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। ৩ বছর থেকে পিত্রালয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমতাবস্থায় ছেলে সন্তানকে জোর করে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে স্বামী। বাধা দেওয়ায় গৃহবধূকে বেদম মারপিট করে। এ ঘটনায় থানায় পৃথক একটি অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। মামলা সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চেংমারী ইউনিয়নের মামুদেরপাড়া গ্রামের আব্দুল হাকিমের মেয়ে জান্নাতি বেগমের সাথে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেনমোহরে ২০২২ সালের জানুয়ারী মাসে বিয়ে হয়েছিল দুর্গাপুর ইউনিয়নের শঠিবাড়ী দুর্গাপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে এনামুল হকের। বিয়ের পর কিছুদিন ভালোই দাম্পত্য জীবন কাটছিল জান্নাতি-এনামুল দম্পত্তির। ৬ মাস পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। জান্নাতিকে মানুষিক নির্যাতন করেন এনামুল। স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ির লোকজন জান্নাতিকে বাবার বাড়ি থেকে ৩ লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে আসতে চাপ দেন। কিন্তু, গরিব বাবার কাছে টাকা আনতে অস্বীকার করেন গৃহবধূ। এতে, তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে শারিরীক নির্যাতন করেন স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ির লোকজন। এভাবে প্রায় সময় নির্যাতন চলে তার ওপর। নির্যাতন সহ্য করেও স্বামীর সংসার করতে থাকেন তিনি। এরই মাঝে ওই বছর অক্টোবর মাসে একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন জান্নাতি। এরপরও থেমে থাকেনি অত্যাচার। নির্মম নির্যাতন ও অত্যাচারে ১৩ দিনের নবজাতক শিশুসহ বাড়ি থেকে বের করে দেন স্বামী ও শ্বশুড় শ্বাশুড়ি। পরে তিনি বাবার বাড়ি চলে যান। কয়েক মাস বাবার বাড়ি অবস্থানের পর ২০২৩ সালের মে মাসে বিষয়টি সমাধানের জন্য বাবা-মা ও পাড়া প্রতিবেশি কয়েকজনকে সাথে নিয়ে জান্নাতি বেগম স্বামীর বাড়িতে যান। কিন্ত, স্বামীর বাড়ির লোকজন তাকে বাড়িতে ঢুকতে দেননি। অনেক অনুরোধ করলে স্বামী এনামুল হক এবার ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। কিন্তু, টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় জান্নাতি ও তার লোকজনকে অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর আদালতে ২০২৪ সালের ৬ মে একটি মামলা দায়ের করেন ওই গৃহবধূ। জান্নাতি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাবা গরিব মানুষ। বিয়ের পর অনেক কষ্ট করে আসবাবপত্র ও কিছু নগদ টাকা জোগাড় করে দিয়েছিল। কিন্তু, ৩ লাখ টাকা দাবি করে স্বামী। এতো টাকা কিভাবে জোগাড় করবেন আমার বাবা? আমাকে মারপিট করেছে স্বামী ও তার বাড়ির লোকেরা। আমি একজন শিক্ষিত নারী। মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট (ডিপ্লোমা চিকিৎসক) পাশ করেছি। তাদের নির্যাতনে পেশাতেও কাজ করতে পারিনি। ছোট্ট নবজাতক শিশুকে নিয়ে সেখান থেকে চলে এসেছি। স্বামী ও শ।শ্বশুড়-শ্বাশুড়ির নির্যাতনে বিতাড়িত হয়ে ৩ বছর থেকে বাবার বাড়িতে মানবেতর জীবন-যাপন করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘চলতি সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী মাসে স্বামী এনামুল আমার বাবার বাড়ি এসে জোর করে ছেলে জোনাদইকে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বাধা দেওয়ায় আমাকে মারপিট করেছে। আমি বাবার বাড়িতেও নিরাপদ নই।’ তার মা আকলিমা বেগম বলেন, ‘বাবা- হামরা গরিব মানুষ। কষ্ট করি ছইলটাক বিয়া দিনু। ট্যাকার জন্য তারা ছইলটাক মারে। এর বিচার চাই।
মিঠাপুকুর থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাটি সত্যিই বেদনা দায়ক। যেহেতু আদালতে মামলা হয়েছে। আদালতের আদেশ মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সন্তানকে জোর করে নেওয়ার চেষ্টা এবং বাধা দেওয়ায় ওই নারীকে মারপিট ও হুমকি ধামকির ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড