আলোকিত নিউজ ডেস্কঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকাল ১০টায় বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠ (কড়াইল বস্তিসংলগ্ন) এলাকায় ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিং কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩ সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীরা মাসিক ২৫০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। পরে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়া হবে তাদের।
সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন উপলক্ষ্যে সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে আয়োজন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। ওই ব্রিফিংয়ে উপরোক্ত তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিতে এর কোনো সুযোগ নেই। প্রকৃত উপকারভোগী বাছাইয়ে পুরোপুরি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক বা দলীয়করণ করা হয়নি। এটি একটি সর্বজনীন কর্মসূচি। তিনি বলেন, দেশে যে কোনো সরবরাহ পদ্ধতিতে বিশেষ করে নগদ টাকা বিতরণে দুর্নীতি হয়। এ কর্মসূচিতে সে ধরনের দুর্নীতি যেন না হয় তা নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে এ কর্মসূচি বিগত সময়ে নেওয়া যে কোনো কর্মসূচির মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়। দেশের অর্থনীতির সুফল প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচি নিয়েছেন। সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
পাইলটিং প্রকল্পে ফ্যামিলি কার্ডে ২৫ কোটি টাকা বিতরণে ১৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে-এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, এ ব্যয় পর্র্যায়ক্রমে কমে আসবে। প্রাথমিকভাবে শুরু করতে গিয়ে এটি বেড়েছে। তবে বড় আকারে কর্মসূচির সঙ্গে বাস্তবায়ন ব্যয় কমবে।
দরিদ্র পুরুষপ্রধান বা নারীবিহীন পুরুষপ্রধান (দরিদ্র) পরিবারকে এ কর্মসূচিতে বাদ দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত-এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টি আমাদের চিন্তার মধ্যে আছে। বড় আকারে কর্মসূচি বাস্তবায়নকালে সেটি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। ভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেউ এ কর্মসূচি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না এ নিশ্চয়তা আছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সর্বজনীন। এখানে রাজনীতি বা দলীয়করণ করা হবে না। তিনি আরও বলেন, এ কর্মসূচি ক্রমান্বয়ে প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবারের কাছে যাবে। আমরা কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের কথা বলি, সেখানে এ ধরনের কর্মসূচি মানুষের প্রত্যাশা ছিল। এ কর্মসূচি হতদরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রায় একটি বড় পরিবর্তন এনে দেবে।
চলমান মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ পরিস্থিতি মাথায় রেখে অর্থনীতির সব ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এ পরিস্থিতি আমরা এড়াতে পারব না। চাইলে এর বাইরেও থাকতে পারছি না। ফলে বর্তমানের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী দিনের কর্মসূচিগুলো সেভাবে প্রণয়ন করা হচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রত্যেকে এ বিষয়ে সচেতন আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় সারা দেশ থেকে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক মান নির্ণয়ের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যাচাই-বাছাই করে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি খানার তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। তবে প্রাপ্ত তথ্য থেকে ডাবল ডিপিং (একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি, পেনশন ইত্যাদি বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমগ্র প্রক্রিয়া সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক মানের ভিত্তিতে সম্পন্ন করায় উপকারভোগী নির্বাচনে কোনোরূপ দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, একটি পরিবারের ৫ জন সদস্যের জন্য ১টি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫-এর অধিক হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পান সে ক্ষেত্রে সেসব বিদ্যমান সুবিধা বাতিল হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের অন্যান্য ভাতা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
পাইলটিং পর্যায়ে কোনো পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হতে বেতন, ভাতা, অনুদান, পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী হিসাবে চাকরিরত থাকলে সে পরিবার এ ভাতা পাবে না। এছাড়া কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ (যেমন-গাড়ি, এসি) থাকলে বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে সে পরিবারও এ ভাতা পাবে না।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ভাতা জিটুপি পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী তার মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আগামী জুন পর্যন্ত ব্যয় হবে ৩৮.০৭ কোটি টাকা। যার মধ্যে ২৫.১৫ কোটি টাকা অর্থাৎ মোট অর্থের ৬৬.০৬% সরাসরি নগদ সহায়তা এবং ১২.৯২ কোটি টাকা (৩৩.৯৪%) কর্মসূচি বাস্তবায়ন জনিত ব্যয়।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড