এবারের দিবসটি কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং নারীর সমঅধিকার নিশ্চিতকরণে এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদাকে সুসংহত করতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের এক বৈশ্বিক দাবিতে রূপ নিয়েছে। নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং সামাজিক সাফল্য উদযাপনের লক্ষ্য নিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বর্ণাঢ্য এবং তাৎপর্যপূর্ণ নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট করে দিয়েছে, নারী উন্নয়ন বা ক্ষমতায়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের যে আলোচনা, তার চেয়ে এখন অনেক বেশি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে কার্যকর উদ্যোগ ও ন্যায়বিচার।
এদিন সকালে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আয়োজিত র্যালি ও সমাবেশগুলোতে নারীর উদ্যোগকে উৎসাহিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে এবং ডিজিটাল ইকোনমিতে বাংলাদেশের নারীরা যে অসামান্য অবদান রাখছেন, তার রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্বীকৃতি দাবি করা হয়েছে। ২০২৬ সালে এসেও মজুরি বৈষম্য বা নিরাপত্তার যে চ্যালেঞ্জগুলো বিদ্যমান, তা মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে নতুন নতুন আইনি কাঠামোর আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিকভাবেও দিবসটি উপলক্ষ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্বে প্রশংসিত হলেও উচ্চতর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এবং করপোরেট নেতৃত্বে নারীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তা এখন অনস্বীকার্য।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বাণী দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিসহ সকল স্তরে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
সম্মান ও মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে কাজ করবে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন অনুষ্ঠান, মেলা, ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৗশল অধিদফতর (এলজিইডি) দিবসটি উপলক্ষ্যে এলজিইডি ভবনে সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে কামরুল ইসলাম সিদ্দিক মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান।
এ ছাড়াও নারী পক্ষ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং জাতীয় প্রেসক্লাবেও নারী দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ আয়োজন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সুচ কারখানার নারী শ্রমিকরা দৈনিক ১২ ঘণ্টার শ্রম কমিয়ে আট ঘণ্টা করা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। সেই আন্দোলনের সময় বহু নারী শ্রমিক গ্রেফতার হন এবং নির্যাতনের শিকার হন।
পরবর্তীকালে ১৮৬০ সালের একই দিনে ‘নারীশ্রমিক ইউনিয়ন’ গঠিত হয়। এরপর ১৯০৮ সালে নিউইয়র্কে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের প্রায় দেড় হাজার নারী শ্রমিক একই দাবিতে আবারও আন্দোলনে নামেন এবং শেষ পর্যন্ত আট ঘণ্টা কর্মঘণ্টার অধিকার আদায় করেন।
নারী শ্রমিকদের এই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে জার্মান নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। এরপর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি নারী অধিকার আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পালিত হতে থাকে।
জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারীবর্ষ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন শুরু করে। পরে ১৯৭৭ সালে দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সংস্থাটি।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড