নিউজ ডেস্কঃ
আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি শহীদ সেলিম-দেলোয়ার দিবস। ১৯৮৪ সালের এইদিনে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ধর্মঘাটের সমর্থনে ও স্বৈরাচার বিরোধী মিছিলে সংহতি প্রকাশ করে যোগ দিয়েছিলেন সংগ্রামী ছাত্র, জনতা। মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি কার্জন হলের পাশ দিয়ে ফুলবাড়িয়া পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে পুলিশের একটি ট্রাক পেছন দিক থেকে অতর্কিতে মিছিলের উপর উঠিয়ে দেয়। এর ফলে ঘটনাস্থলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র বাউফলের মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেলিম এবং ভান্ডারিয়ার কাজী দেলোয়ার হোসেন নিহত হয়। আকস্মিক এ পৈশাচিক ঘটনায় আহত হয় ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী; পিচঢালা রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়। পৈশাচিক এ হত্যাকাণ্ডে ফুঁসে উঠে সারা দেশ, প্রকম্পিত হয় ঢাকার রাজপথ। আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত হয় নতুন মাত্রা। দেশব্যাপী গড়ে ওঠে দুর্বার আন্দোলন- যা পরবর্তীতে স্বৈরাচারের পতনকে ত্বরান্বিত করে। শহীদ সেলিম দেলোয়ার স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ২২/২ সোনারগাঁ রোডস্থ ফিকামলি সেন্টারে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়। অসহায় ও দু:স্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সেলিম ও দেলোয়ার এর সাথে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের সহযোদ্ধা রুমমেট ও একই মিছিলে আহত ড. আব্দুল ওয়াদুদ প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এ আয়োজন করেন।
এর পূর্বে শহীদ সেলিম-দেলোয়ার এর ৪২তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরনসভা আজ বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন, ৮২-৯০ এর ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতা জনাব আসাদুল্লাহ তারেক এবং সঞ্চালনা করেন ৯০ এর ছাত্রনেতা রাজু আহমেদ। সভায় বক্তব্য রাখেন, প্রাক্তন ছাত্রনেতা, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন, প্রাক্তন ছাত্রনেতা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাবেক ছাত্রনেতা ও জাসদ নেতা মোঃ মহসীন, সাবেক ছাত্রনেতা জনাব মনসুরুল হাই সোহন, সাবেক ছাত্রনেতা ডা. সরদার ফারুক, সাংবাদিক কিবরিয়া চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা আবু সালেহ আহমেদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য হুমায়ুন মুজিব সাবেক ছাত্রনেতা সৈয়দ হারুন-অর-রশিদ, সাবেক ছাত্রনেতা অশোক ধর, সাবেক ছাত্রনেতা, ন্যাপ নেতা নাছিমা হক রুবি, সাবেক ছাত্রনেতা, গণতন্ত্রি পার্টির নেতা খায়রুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা মিনহাজ উদ্দিন সেলিম, সাবেক ছাত্রনেতা খান মোঃ রুস্তম আলী, স্বদেশ পার্টির সভাপতি ও জাতীয় ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম মন্টু প্রমূখ।
স্মরণসভায় প্রাক্তন ছাত্রনেতৃবৃন্দ বলেন, ৮২ এর ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠেছিলো এরশাদ এর সামরিক শাসন প্রতিহত করার লক্ষ্যে। গড়ে উঠেছিলো সকল ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। এরশাদ ক্ষমতা দখলের পর মজিদ খানের শিক্ষানীতি ঘোষণা করেন। মজিদ খানের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১০ দফা কর্মসূচী ঘোষোণা করে। সেই সংগ্রামের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিলো শিক্ষাকে বাণিজ্যিক করন বন্ধ ও বিজ্ঞান ভিত্তিক একমূখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা। সেই সংগ্রামে ১৯৮৩ সালে ছাত্রদের মিছিলে এরশাদ সামরিক সরকার নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ছাত্র হত্যা করে। শহীদ হন জাফর, জয়নাল, আইয়ুব, দিপালী সাহা সহ অসংখ্য ছাত্র বন্ধুরা। শুরু হয় এরশাদ সামরিক শাসন বিরোধী গণতান্ত্রিক ছাত্র গণ আন্দোলন। ছাত্র আন্দোলনের পাশাপাশি শ্রমিক শ্রেনীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। এ দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী প্রদান করলেও গত দুইবছর ধরে তা বন্ধ রয়েছে।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড