নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে সারা দেশে পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, পোস্টাল ভোট গণনার স্থান নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের রিটার্নিং অফিসার।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, পোস্টাল ভোট পরিচালনার জন্য প্রতিটি সংসদীয় আসনে একজন করে মোট ৩০০ জন প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গণনার সময় প্রতিটি প্রার্থীর পক্ষ থেকে একজন করে মনোনীত পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবেন এবং তাদের সামনেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
নির্বাচন কমিশন বলছে, পোস্টাল ব্যালট গণনায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সব বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় এমন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, যাতে কোনো অবস্থাতেই ভোটারের পরিচয়ের সঙ্গে তার ভোট মিলিয়ে দেখার সুযোগ না থাকে।
এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, গণনার শুরুতেই প্রতিটি খাম থেকে ব্যালট ও ঘোষণাপত্র (অঙ্গীকারনামা) আলাদা করা হবে। যেসব ঘোষণাপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর সঠিকভাবে পাওয়া যাবে, সেগুলোর সঙ্গে থাকা ব্যালট বৈধ হিসেবে গণনার জন্য আলাদা করে রাখা হবে।
তিনি বলেন, বৈধ ব্যালট খোলার পর সেখানে থাকা ভিন্ন রঙের দুটি ব্যালট—একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও অন্যটি গণভোটের—আলাদা করা হবে। এই ধাপে এসে ঘোষণাপত্র, খাম ও ব্যালট পুরোপুরি পৃথক হয়ে যাবে, ফলে পরবর্তীতে কোনোভাবেই এগুলো মিলিয়ে দেখার সুযোগ থাকবে না।
আখতার আহমেদের ভাষায়, “ধরা যাক ৫০টি ব্যালট যাচাই করা হলো। সেগুলো কোন ভোটারের বা কোন খাম থেকে এসেছে, তা শনাক্ত করার কোনো উপায় তখন আর থাকে না।”
ইসি জানিয়েছে, পোস্টাল ব্যালট গণনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন এবং পুরো কার্যক্রম পোলিং এজেন্টদের সামনে সম্পন্ন হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট আলাদাভাবে গণনা করা হবে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট প্রতীক অনুযায়ী ১০০টি করে বান্ডেল করা হবে এবং পরে সাধারণ ভোটের ফলের সঙ্গে যোগ করে চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করা হবে।
ইসি আরও জানিয়েছে, পোস্টাল ব্যালট গণনায় সাধারণ ব্যালটের তুলনায় কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। কারণ এখানে ঘোষণাপত্র যাচাইসহ একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।
জানা গেছে, পোস্টাল ব্যালট বক্সগুলো আগেই পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে সিলগালা করা হয়েছে। গণনার সময় সেগুলোও তাদের সামনেই খোলা হবে। প্রতিটি বক্সে ব্যবহৃত লক ও লক নম্বর আগেই নোটিস বোর্ডে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে সবাই তা যাচাই করতে পারেন।
পোস্টাল ভোট বিডি প্রকল্পের পরিচালক ও ইসির অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ জানান, পোস্টাল ব্যালট গণনার জন্য আলাদা কোনো বুথ থাকবে না। রিটার্নিং অফিসার নির্ধারিত স্থানে প্রিসাইডিং অফিসারের তত্ত্বাবধানে গণনা হবে।
তিনি বলেন, প্রিসাইডিং অফিসারের অধীনে পোলিং অফিসার ও সহায়ক কর্মকর্তারা গণনার কাজ করবেন। এ সময় প্রতিটি প্রার্থীর একজন করে পোলিং এজেন্ট থাকতে পারবেন। তবে অনুমোদিত পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং পোলিং এজেন্টরা মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশের চার শ্রেণির নাগরিক মিলিয়ে ১৫ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন।
মোঃ কামরুজ্জামান মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক তুহিন প্রিন্টিং প্রেস ফকিরাপুল ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ই-মেইল: 𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
ই-পেপার: 𝐞𝐩𝐚𝐩𝐞𝐫.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট: 𝐰𝐰𝐰.𝐝𝐚𝐢𝐧𝐢𝐤𝐚𝐥𝐨𝐤𝐢𝐭𝐨𝐧𝐞𝐰𝐬.𝐜𝐨𝐦
মোবাইল: ০১৯২৭-৩০২৮৫২/০১৭৫০-৬৬৭৬৫৪
আলোকিত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড